০৬:৩৯ পি.এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি কংগ্রেস নেতা এবং তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট), ভারতের স্বাধীনতা দিবসের রাতে, বাড়ি ফেরার পথে তাদের গাড়ি আটকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। পরে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় ওই বাবা-ছেলের শরীর।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন আনিসুর রহমান এবং তার ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান। আনিসুর রহমান নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, শনিবার নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরি বাজারে জাতীয় কংগ্রেসের কার্যালয়ে ছিলেন আনিসুর রহমান। রাতের সময় পার্টি অফিসে দীর্ঘ সময় থাকার পর, ছেলে আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন তিনি।
ফেরার সময়ে নাগাদি রেলগেটের আন্ডারপাসের কাছে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে কয়েকজন লোক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে তারা। পরে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
হামলার পর বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পুলিশকে খবর জানান।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত আনিসুর রহমান ও আবু সুফিয়ানকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জোড়া এই খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৃশংস এই খুনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে আমাদের দলের নেতা ও তার ছেলেকে। আমাদের দলের নেতার ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য লন্ডনে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছিলেন। চলতি মাসেই লন্ডনের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল তার।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন, বাবার সঙ্গে ছেলেকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। মৃত্যুকে নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেককে ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চরম শাস্তি দাবি করছি আমি।
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন