০৫:১২ পি.এম
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই লেবানন জুড়ে তীব্র হামলা অব্যাহত রেখেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। যুদ্ধবিরতির শুরুমাত্র একদিনে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তবে এ সংখ্যা হুরহুর করেই বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায়, ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন সতর্ক করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের নীতির কারণে দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০ বস্তা ভেজাল পশুখাদ্য জব্দ, রিটন মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
দেশটির চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানায় আন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।
সাক্ষাৎকারে ইয়ালন বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিভ্রান্তিকর কল্পনার মূল্য এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে।’
এদিকে, তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরেই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ছিল। তবে রাজনৈতিক কারণে তা না হওয়ায় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা প্রাণ হারাচ্ছেন।
জোট টেকাতে যুদ্ধ? ইয়ালনের ভাষ্য, ‘ব্যক্তিগত ও দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সেনাদের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে।’ এর পাশাপাশি, সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ তুলেছেন, নেতানিয়াহু তার ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি জোটকে অক্ষত রাখতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে দেশে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু তার উগ্রপন্থি জোটকে নিরাপদ রাখতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ইসরায়েলে সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে ইয়ালন আরো মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি। এর পরও যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে আমাদের আর কোনো রাষ্ট্রই অবশিষ্ট থাকবে না।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা ছাড়া ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকতে পারত না। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হয়ে যেত।
আরও পড়ুন: সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বাংলাদেশ কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে ইসরায়েল চূর্ণ হয়ে যেত। কারণ ইসরায়েলকে উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা, আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এবং বি-২ বোমারু বিমানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকে ওয়াশিংটন।’
এদিকে, ইসরায়েলের শত্রু লেবানন নয়, বরং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ—এমন মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াউইয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘লেবানন ইসরায়েলের শত্রু নয়। সমস্যা হলো হিজবুল্লাহ, যারা বারবার লেবাননকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং দেশটির জনগণকে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করে।’
আরও পড়ুন: বুড়িগঙ্গায় জবি ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নৌকা মিছিল, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আশা
অতিরিক্তভাবে, ওয়াউইয়া আরও বলেন, হিজবুল্লাহ যদি চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধ করে এবং শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে, তাহলে ইসরায়েলি ও লেবানীজ—উভয় পক্ষের জন্যই শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।
একদিকে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পরেও অব্যাহত রয়েছে তীব্র হামলা। এর মধ্যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। আহত হয়েছেন ১২ জন।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি শনিবার জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো নাবাতিয়েহ এলাকায় চলমান হামলার পর ১৬ জনের মরদেহ এবং ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে।
সংস্থাটি জানায়, শনিবার ভোর থেকে তাদের সদস্যরা এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ইলিশ বিক্রিতে জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিতে হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন