ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শক্তিশালী এআই টুল ‘ফ্যাবল ৫’ ও ‘মিথোস ৫’ ব্যবহার কেন স্থগিত হলো, ‘ঝুঁকি’ কোথায়?


শক্তিশালী এআই টুল ‘ফ্যাবল ৫’ ও ‘মিথোস ৫’ ব্যবহার কেন স্থগিত হলো, ‘ঝুঁকি’ কোথায়?

মার্কিন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পর অ্যানথ্রোপিক তাদের নতুন এবং শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করার আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অ্যানথ্রোপিক তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘ক্লড ফ্যাবল ৫’ মডেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হয়েছে। এই মডেলটিকে অ্যানথ্রোপিক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই নির্দেশনার ফলে নিয়ম মেনে চলার স্বার্থে আমাদের সকল গ্রাহকের জন্য ফ্যাবল ৫ এবং মিথোস ৫ হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন: হারুনুর রশীদ আজাদ: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে

অ্যানথ্রোপিক এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আরেকটি আইনি বিরোধ চলমান রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে কোম্পানিটির এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যানথ্রোপিক।

ক্লড ফ্যাবল ৫ হলো অ্যানথ্রোপিকের ক্লড মিথোস-এর একটি সংস্করণ, যা এআই প্রোগ্রাম হিসেবে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও গুগলের জেমিনির মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

অ্যানথ্রোপিক দাবি করেছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেনি। তবে সরকারের ধারণা, কেউ ফ্যাবল ৫-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে বা ‘জেইলব্রেক’ করে সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।

সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় ‘জেইলব্রেক’ বলতে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সুরক্ষিত তথ্য বা বৈশিষ্ট্যে প্রবেশাধিকার পাওয়ার কৌশলকে বোঝানো হয়।

আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব

অ্যানথ্রোপিক জানায়, তারা সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনী পর্যালোচনা করতে গিয়ে এতে কয়েকটি পূর্বপরিচিত ও তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র দুর্বলতা শনাক্ত করেছে। কোম্পানির মতে, একই ধরনের দুর্বলতা অন্যান্য অনেক উন্মুক্ত এআই মডেলেও নির্দেশিত হয়েছে।

মডেলটি উন্মুক্ত করার আগে অ্যানথ্রোপিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার কথা প্রচার করেছিল। এপ্রিল মাসে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য এটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।

কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলটি এতটাই উন্নত ছিল যে এটি কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানোর সক্ষমতা রাখতো, ফলে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা ছিল। যদিও সমালোচকদের একটি অংশ এই ধরনের বক্তব্যকে বিপণন কৌশল ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন আলোচনা শেষে জুনের শুরুতে মিথোসে প্রবেশাধিকার লাভ করেছিল। তারা বলেছে, এই সবশেষ ঘটনা ‘ইউরোপের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের প্রয়োজনীয়তাকে’ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ার বলেন, ‘আমরা অ্যানথ্রোপিকের বিবৃতিটি আমলে নিয়েছি এবং বিষয়টি মূল্যায়ন করছি।’ এ মাসে ইউরোপীয় কমিশন এআই-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার ওপর ২৭-রাষ্ট্রীয় জোটের নির্ভরতা ব্যাপকভাবে কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রেসপনসিবল এআই-এর অধ্যাপক জিনা নেফ বিবিসিকে বলেছেন, মডেলটিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এআই সিস্টেমগুলোর উন্নয়ন এবং নিরাপদ পরীক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এখন একেবারেই নতুন একটি বাস্তবতায় প্রবেশ করছি। এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সাইবার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুভাবাপন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত একটি কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে টোকিও

তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অ্যানথ্রোপিক মামলা দায়ের করেছে। একজন মার্কিন বিচারক প্রাথমিকভাবে সরকারের নির্দেশনা কার্যকর না করার আদেশ দিয়েছেন। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের জন্য আগ্রহী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের জন্য আগ্রহী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফরাসি সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা–এর পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা ও যুগ্মসচিব ইলিয়া সুমনা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করে। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে ফ্রান্স আগ্রহী। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের যুবসমাজের সুযোগ বাড়াতে বিশেষায়িত ফরাসি ভাষা প্রশিক্ষণ চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। তিনি ১৯৮৭ সালের ১০ মার্চ স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক চুক্তিটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে নবায়ন ও আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯২ সালের ওই চুক্তিটি নবায়নের বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা এবং চট্টগ্রামের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে তরুণদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিল কেটে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মালামাল চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


গ্রিল কেটে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মালামাল চুরি

 

নাটোর সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে জানালার গ্রিল কেটে কম্পিউটার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১৪ জুন) সকালে অফিসে এসে কর্মচারীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির পর রবিবার সকালে এসে কর্মচারীরা কম্পিউটার চুরির ঘটনাটি দেখতে পান। এ সময় তারা লক্ষ্য করেন কম্পিউটার রুমের পেছনের গ্রিল কাটা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা একটি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি ইউপিএস ও একটি রাউটার চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নাটোর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নাটোর থানার ওসি মনসুর আহমেদ জানান, সিসিটিভির ক্যামেরা যাচাই করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি কার্যক্রম চলছে, তারা গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব রক্তদান দিবসে রাজৈরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


বিশ্ব রক্তদান দিবসে রাজৈরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বিশ্ব রক্তদান দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজীবন ব্লাড কালেকশন গ্রুপের উদ্যোগে টেকেরহাট বন্দরে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য, তরুণ রক্তদাতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। র‍্যালি শেষে টেকেরহাট তালুকদার ডিজিটাল প্লাজার পার্টি সেন্টারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবউদ্দিন আহমেদ, নবজীবন ব্লাড কালেকশন গ্রুপের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আজগর শেখ, আরিফুজ্জামান বেগ টিপু, মশিউর রহমান, ইউ এস মডেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান সৈয়দ সোহেল, সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান, তালুকদার ডিজিটাল প্লাজা শপিং মলের পরিচালক ও নবজীবন ব্লাড কালেকশন গ্রুপের উপদেষ্টা নূর হোসেন ঢালী, রাজৈর উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন, আরাফ বাংলাদেশের পরিচালক সাংবাদিক সুজন হোসেন রিফাত, রাজৈর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক টুটুল বিশ্বাস, হীরা চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, একসময় রক্তের অভাবে অনেক রোগীকে প্রাণ হারাতে হতো। বর্তমানে তরুণদের স্বেচ্ছায় রক্তদানের মানবিক উদ্যোগের ফলে এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে কমে এসেছে। তারা বলেন, রক্তদান একটি মহৎ ও জীবনরক্ষাকারী কাজ। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তরুণদের আরও উৎসাহিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ হারাতে পারে।
আলোচনা সভা শেষে লটারির মাধ্যমে তরুণ রক্তদাতাদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে রক্তদানের গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈর পৌরসভার অবহেলা, মহাসড়ক পরিণত ময়লার ভাগাড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


কালিয়াকৈর পৌরসভার অবহেলা, মহাসড়ক পরিণত ময়লার ভাগাড়ে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং জোন বা বর্জ্যাগার ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন পৌরসভার নীল রঙের ট্রাক দিয়ে টনের পর টন ময়লা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোল ঘেঁষে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের পাশেই রয়েছে ১০-১৫ ফুট উঁচু ময়লার পাহাড়। পৌর কর্মীরা ট্রাক থেকে ময়লা নামাচ্ছে, আর পাশ দিয়ে চলছে শতাধিক বাস, ট্রাক, অটো রিক্সা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে ২০ বছরের স্মার্ট মডেল পৌরসভা এখন মহাসড়ক দূষণের জাতীয় নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, চান্দুরা ও খাড়াজোড়া হাইটেক পার্কের সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একপাশে ১০-১৫ ফুট উঁচু ময়লার স্তূপ বেড়ে উঠেছে। পৌরসভার ট্রাক এসে মহাসড়কের কোল ঘেঁষেই ময়লা ফেলছে। পচা সবজি, পলিথিন এবং প্লাস্টিকসহ গৃহস্থালি আবর্জনায় স্তূপ হয়ে রয়েছে। ড্রেনের ওপরেও ময়লা স্তূপিত হয়ে গেছে, ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে সেই ময়লা থেকে কালো দুর্গন্ধযুক্ত পানি গড়িয়ে মহাসড়কে পড়ছে। পচা গন্ধ এত প্রচণ্ড যে, ৫০ মিটার দূর থেকেও মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কাক-কুকুর, মশা-মাছির উৎপাতে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ ও আশপাশের স্কুলের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন এ ময়লার পাশ দিয়ে ক্লাসে যান। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি পাশে বাস এবং প্রাইভেটকার চলছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা নাকে রুমাল চেপে দৌড়াচ্ছে। এক ছাত্রী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, "স্যার, প্রতিদিন এই গন্ধের মধ্যে দিয়ে колледে যাই। বই-খাতা, জামা-কাপড় সব ময়লার গন্ধে মাখা থাকে। বৃষ্টি হলে পচা পানি গায়ে লাগে। ২০ বছরেও পৌরসভা একটি ডাম্পিং জোন করতে পারলো না, আমরা কি এভাবেই পড়াশোনা করবো।"

স্থানীয় অটোরিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কই এখন ময়লার ভাগাড়। সারাদিন গাড়ি চালাই, গন্ধে মাথা ঘোরে বমি আসে। যাত্রী উঠাতে লজ্জা লাগে। পৌরসভার ট্রাক প্রতিদিন ময়লা ফেলে দেয়, সাধারণ মানুষ কি করবে?"

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নিতাই চন্দ্র বলেন, "কালিয়াকৈর পৌরসভা ২০ বছরে ময়লার ডাম্পিং ব্যবস্থা করতে পারছে না। নির্বাচনের সময় মেয়র-কাউন্সিলররা বলেছিল স্মার্ট মডেল পৌরসভা বানাবো। আর এখন মহাসড়কেই ডিজিটাল ডাস্টবিন বানিয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে চলছে খেলা।"

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মহাসড়কের পাশে খোলা ময়লা থেকে লিচেট পানি মাটির নিচে যাচ্ছে, ফলে ভূগর্ভের পানি দূষিত হচ্ছে। মশা-মাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়াচ্ছে। ময়লার স্তূপের কারণে মহাসড়কে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, "পৌরসভার ময়লা রাখার নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। জমি কিনে ডাম্পিং পয়েন্ট করার প্রক্রিয়া কয়েকবার বিফলে গিয়ে। ঊর্ধ্বতনের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করেছি। খুব দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "অপাতত ময়লা ঢেকে দেওয়া ও ব্লিচিং ছিটানোর কাজ চলছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, "শুধু ডাম্পিং জোন নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য আলাদা করা ও কম্পোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, মেডিকেল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ ও ইনসিনারেশন, রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে ৬০% ময়লা কমানো সম্ভব।" কালিয়াকৈর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০ বছরেও নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, চান্দুরা ও খাড়াজোড়া এলাকা ময়লার ভাগাড় হয়ে গেছে। পৌরসভার নিজস্ব ট্রাকই প্রতিদিন মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলে দিচ্ছে, যার দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে হাজারো শিক্ষার্থী ও পথচারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়লেও পৌর কর্তৃপক্ষ "জমি নাই" অজুহাতে দায় এড়াচ্ছে। এলাকাবাসী এবং বিশেষজ্ঞরা দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং জোন নির্মাণ, মেডিকেল বর্জ্য আলাদাকরণ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলেছেন। "স্মার্ট মডেল পৌরসভা"র স্বপ্ন দেখানো কালিয়াকৈর পৌরসভার কাছে প্রশ্ন হলো, ২০ বছর পরও যদি মহাসড়কই ডাস্টবিন হয়, তবে উন্নয়ন কোথায়?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%