১২:৫৫ পি.এম
খুলনায় পারিবারিক কলহার জেরে খুন হয় তরুণী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ঘটনার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত নির্জনা সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
জানা যায়, নির্জনা খুলনার একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিবাহিত এক পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে। কিছুদিন সেখানে অবস্থানের পর আবার বাড়িতে ফিরে আসে। সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়ায় রনি নামের আরেক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন পর বাড়িতে ফোন দিয়ে রনিকে বিয়ের কথা জানায়। এরপর সেখান থেকেও কিছুদিন পর বাড়িতে ফিরে আসে। এসব নিয়ে বাড়িতে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: কসবায় দু'পক্ষের সংঘর্ষে জনজীবন বিপর্যস্ত
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ঘটনার রাতে মা এবং মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা তার মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এসময় পাশের রুম থেকে বাবা আলীম হোসেন আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে মেয়েকে আঘাত করতে গিয়ে তা মেয়ের মাথায় লাগে। আঘাতটি তার মাথায় লাগায় সে লুটিয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষরণে নির্জনা মারা যায়।
এরপর ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহ প্রান্তিকা আবাসিকের একটি গলিতে ফেলে দেওয়া হয়।
নির্জনার মা সীমা দাবি করেন, কাঠের বাতা দিয়ে আঘাতটি মেয়ের শরীরে করতে চেয়েছিলেন তার স্বামী। কিন্তু তা দুর্ঘটনাবশত মাথায় লেগে যায়। পুলিশ এই ঘটনায় বাদী হয়ে বাবা-মা দুজনকে আসামি করে মামলা করেছে। বাবা আলীম হোসেন আকাশকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে পুলিশ প্রান্তিকা আবাসিকে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী আস্তানায় ৩ মরদেহের সন্ধান মেলেনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন