০৬:১৯ পি.এম
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো সমন্বিত সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
আজ রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং ওভারভিউ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনের মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনার প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর দিকনির্দেশনায় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সার্বিক তত্ত্বাবধানে, আইসিএও গোল্ড সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন
কর্মশালায় জানানো হয়, এই মহাপরিকল্পনা হবে দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ। এই রোডম্যাপ আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর অথবা তারও বেশি সময়ের জন্য উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশল নির্ধারণ করবে। এর আওতায় থাকবে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "এ মহাপরিকল্পনা দেশের দ্রুত বিকাশমান বিমান চলাচল খাতের সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার
কর্মশালায় আইসিএওর বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানের সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিমান খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান নেই। এই ঘাটতি পূরণে বেবিচক এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে আইসিএও প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে।
কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার, ট্রেন চলাচল শুরু
কর্মকর্তারা এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এ কর্মশালা খাতটির জন্য সমন্বিত জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রয়াস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন