০৫:৩৮ পি.এম
ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর প্রথমে লিবিয়ায় বন্দি হন। এরপর মাফিয়াচক্র দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তাও সত্ত্বেও দেড় বছর ধরে যুবকের কোনো খোঁজ নেই। তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে, কারণ আদরের সন্তানের খোঁজ তারা পাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মা শিল্পী বেগম নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। জানা যায় না আদরের সন্তানের অবস্থান কেমন। পরিবারের সদস্যরাও তাদের সন্তানের জানেন না। প্রতি দিন বাড়িতে চলছে আজাহারি এবং পাড়াপ্রতিবেশীরা ভিড় করছেন।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়ে রাজীব। সে সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় তার দালালের সাথে সরাসরি ইতালি নিয়ে যাওয়ার শর্তে চুক্তি হয়। ওই চুক্তির ভিত্তিতে, ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রকে দিতে হবে। এর পর, রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন্দি রেখে মুক্তিপণের জন্য আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
আরও পড়ুন: কসবায় দু'পক্ষের সংঘর্ষে জনজীবন বিপর্যস্ত
এর পরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই দামের জন্য টাকা না দিতে পারায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো খবর নেই। এই ঘটনার পরবর্তীতে দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেদন করেছেন।
এই ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তারা দুইজনই কারাগারে আছেন।
নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোন সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই এবং দালালের বিচার দিতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।’
পাড়াপ্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পরে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধপথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে।’
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী আস্তানায় ৩ মরদেহের সন্ধান মেলেনি
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন