০৮:১০ পি.এম
কুড়িগ্রাম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোনা অবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার রোধ করা হলে কুড়িগ্রাম মাছের ঘাটতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি মৎস্য উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হওয়া একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয় এবং সুলতানা সরোবরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে 'স্বপ্নকুঁড়ি'তে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ জেলায় প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীতে নিয়মিতভাবে এবং ব্যাপকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করতে পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় রেলপথ-সড়ক অবরোধ, বন্ধ ট্রেন চলাচল
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে পালিত জাতীয় মৎস্য পক্ষের আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় জেলা মৎস্য খাতের সার্বিক পরিসংখ্যান এবং নদ-নদীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুড়িগ্রামের ১৬ হাজার হেক্টর আয়তনের নদ-নদীগুলো শুধুমাত্র পানির উৎস নয়, এগুলো দেশীয় মাছের মূল প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। তবে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদী ভরাট এবং প্রজনন মৌসুমে অবাধে মা মাছ ও পোনা শিকারের কারণে অনেক দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জেলার বর্তমানে বছরে ৪৯ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু চাহিদা রয়েছে ৫১ হাজার মেট্রিক টনের। এর ফলে, বছরে প্রায় ১ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। বক্তাদের মতে, শুধুমাত্র আবদ্ধ পুকুর বা বরোপিটে চাষের ওপর নির্ভর না করে যদি ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের মতো প্রধান নদীগুলোতে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা যায়, তবে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ সম্ভব হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আজাদুন্নবী শামীম এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ।
আরও পড়ুন: সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন নাসিরনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক
আলোচনা শেষে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের नदी-নদীতে কারেন্ট জাল কিংবা চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা পোনা মাছগুলোকে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন