০৮:৪৩ এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী তুমুল চাহিদার কারণে বড় ধরনের সফলতার মুখ দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স।
এআই মেমরি চিপের বাড়তি চাহিদার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) স্যামসাং তাদের একটি প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে কোম্পানিটি তাদের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করবে।
আরও পড়ুন: হারুনুর রশীদ আজাদ: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে
স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এই তিন মাসে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯.৪ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৮.৪ বিলিয়ন ডলার)। এটি টানা তৃতীয়বারের মতো কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক লাভ।
একই সময়ে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণও অনেক বেড়েছে। এই তিন মাসে স্যামসাং প্রায় ১৭১ ট্রিলিয়ন ওন মূল্যের পণ্য বিক্রি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি পারফরম্যান্স। মূলত এআই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য মেমরি চিপের ব্যাপক চাহিদা এবং বাজারে চিপের সরবরাহ কম থাকায় স্যামসাং চিপের দাম বাড়াতে পেরেছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের মুনাফায়।
স্যামসাং বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা নিজেদের মোবাইল বা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পাশাপাশি মার্কিন চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়া ও গুগলের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও চিপ তৈরি করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই চিপের এই অভাবনীয় চাহিদা আগামী বছর জুড়েও বজায় থাকতে পারে। চিপের ব্যবসার এই সুবাতাসের কারণে চলতি বছরে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব
তবে বাজারে চিপ খাতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় মঙ্গলবার সকালে সিউলের বাজারে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে প্রায় ৫.৫ শতাংশ কমেছে।
ভবিষ্যতে চিপের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার স্যামসাং ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মিলে চিপ উৎপাদন খাতে কমপক্ষে ৮৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কারণ জাপান, চীন ও তাইওয়ানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও এখন চিপ তৈরিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন