বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১২:১২ এম
শেরপুরে সরকারি বিভিন্ন কাজের ফাঁকে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা আকস্মিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানো, পড়াশোনা এবং পুষ্টির খোঁজ নেওয়া, বিদ্যালয়ের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছে। সেই সঙ্গে, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, গত এক মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন শিডিউল ছাড়াই সদর উপজেলা এবং অন্যান্য উপজেলার অন্তত অর্ধশত স্কুল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারাও বসে নেই। তারা সকলেই কাজের সুযোগে খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে যাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১০টি স্কুল পরিদর্শন করেছেন এবং শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতি, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সরকারি স্কুলের এই শিক্ষার্থীর সাথে থাকলে স্বস্তি পাই। তারাই তো আগামী দিনের বাংলাদেশ। তারা পিছিয়ে পড়লে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে না। প্রকৃত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে, আমাদের এই অবহেলিত শিশুদের বেশি সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন।’
ফরিদা ইয়াছমিন আরও বলেন, ‘দায়িত্ববোধ থেকেই প্রশাসন-এ কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালনে কাউকে অসৌজন্য আচরণ নয়, ভদ্রতার সাথে অনুরোধ করছি। স্কুলে গিয়ে দেখেছি, আমাদের শিশুরা অনেক মেধাবী। উপযুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষা দিতে পারলে ওরাই দেশের প্রকৃত নাগরিক হয়ে উঠবে।’
কয়েকজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করেও জানা গেছে, প্রশাসনের এই তৎপরতায় স্কলে শিক্ষার্থীদের আনতে শিক্ষকরা সক্রিয় হয়েছেন। স্কুল ফাঁকিতে সাবধান হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকেই।
এদিকে পরিদর্শনকালে বেশ কিছু স্কুলের অবস্থা ভালো দেখা গেছে এবং বেশ কিছু স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যার সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। একইসাথে জানান যে, গ্রামের অনেক শিশু শিক্ষার্থী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। পুষ্টিহীন এই শিশুদের পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা করার আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় দুইটি পৃথক অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৫৯টি গোলাবারুদসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এটি জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় এবং আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বুধবার আইএসপিআর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পানছড়ির বরকলক এলাকায় অভিযানের সময় সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। পরে ওই এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেন, তাদের কাছে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩২টি গোলাবারুদ ছিল।
অন্যদিকে, রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় পরিচালিত অপর একটি অভিযানে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের একজন সদস্য নিহত হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান এবং ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ অন্যান্য সামগ্রী।
আইএসপিআর জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফেরি করে অ্যাপসের মাধ্যমে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৫টার দিকে কুমারখালী থানামোড় এলাকার এ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাভিদ সারওয়ার। এ কাজে সহযোগিতায় ছিলেন জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. রহমতুল্লাহ ও থানা পুলিশ।
জানা গেছে, জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মেডিগো নামক অ্যাপসের এসআর হিসেবে কাজ করছিলেন।
মেহেদী হাসান কুমারখালী থানামোড় এলাকায় বিভিন্ন ফার্মেসির সাথে অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ কম মূল্যে বিক্রির জন্য প্রস্তাব দিতেন। তিনি ফার্মেসি মালিকদের ফোনে অ্যাপস সেটিং করতেন। বিষয়টি টের পেয়ে, ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের সংগঠন ফারিহা’র সদস্যরা মেহেদীকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন।
কুমারখালী ফারিহা’র সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, অ্যাপসটির মাধ্যমে দেশের নামিদামি কোম্পানির ওষুধের লোগো ব্যবহার করে কম মূল্যে নকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। যার ফলে ফার্মেসি মালিক ও অ্যাপসের লোকজন লাভবান হলেও রোগী ও স্বজনরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।
অভিযুক্ত মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি জানতেন না যে তিনি কী করছিলেন এবং চলতি মাসের ৪ জুন থেকে কুষ্টিয়া জেলায় এ কাজ করছেন। তবে কোম্পানির নাম ও ঠিকানা তাঁর জানা নেই। তিনি বরং কমিশনের মাধ্যমে কাজ করছিলেন।
জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. রহমতুল্লাহ জানান, অ্যাপসের মাধ্যমে ফেরি করে ওষুধ বিক্রির প্রস্তাব করার অপরাধে একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অ্যাপসটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, এভাবে ফেরি করে ওষুধ বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
তারা সেশনজট, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং উপস্থিতি গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে তালা দেন। বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে অবস্থিত বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কক্ষটিতে তালা ঝুলছিল। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল—‘ছাত্র-ছাত্রীদের বিভাগ না, শিক্ষকদের বিভাগ?’, ‘কিসের অর্ডিন্যান্স, সাড়ে ছয় বছরে অনার্স কেন?’, ‘৯ মাসে এক সেমিস্টার কেন?’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, করোনাকালীন শিক্ষাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না দিয়ে বিভাগটি নানা সময়ে ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা করেছে। এ ছাড়া মাস্টার্সে উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন কোর্স শিক্ষকেরা।
একটি ক্লাসের বিপরীতে একটি উপস্থিতি দেওয়ার কথা থাকলেও তিন-চারটি করে উপস্থিতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে সেদিন ক্লাসে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীরা একদিন না থাকায় কয়েকটি উপস্থিতি হারিয়ে ফেলেছেন।
এসব কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতির কোটা পূরণ করতে পারেননি। তাঁদের দাবি সুযোগ না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, ‘আমাদের অনার্স শুরু হয় ২০২০ সালে, কিন্তু শেষ হতে প্রায় ছয় বছর লেগেছে। মাস্টার্সও দেরিতে শুরু হয়েছে। কিছু শিক্ষক উপস্থিতি গণনায় অনিয়ম করেছেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি পূরণ করতে পারেনি। বিষয়টি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সমাধান পাইনি, তাই আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে তালা দিয়েছি।’
একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি বলেন, ‘করোনাসহ বিভিন্ন কারণে চার বছরের অনার্স শেষ হতে আমাদের প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছে। ফল প্রকাশেও বিলম্ব হয়েছে। অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু শেষ হয়েছে ২০২৬ সালে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি ক্লাসে একাধিকবার উপস্থিতি ধরা হচ্ছে, ফলে কিছু শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় উপস্থিতি পূরণ করতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সমাধান চাই।’
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের সভাপতি রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের নিচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। আজ বুধবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তারা সবাইকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তানোরে কৃষিপণ্যর দরপতনে কৃষকরা দুঃখের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ও চরম সংকটের মুখোমুখি। তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনের পরদিন পরিশ্রম করে উৎপাদন করা কৃষিপণ্যগুলো এখন সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থার অভাবে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। ফলে প্রতি মুহূর্তে তারা একের পর এক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। অবগত সূত্রে জানা গেছে, আলুর পর এবার আমের দরপতন ঘটেছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকদের হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনও কিছু আছে যারা শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছে। নতুন খবর হচ্ছে, এনজিও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে কিছু কৃষক এলাকায় চলে গেছে।
এদিকে, তানোরে আলুর জমিতে রোপণ করা বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে মাঠের নতুন ধানের পাশাপাশি গাছে পাকা আম ঝুললেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। ধান ও আমের দাম বাজারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উৎপাদন খরচ তুলতে পারার শঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখন ধান প্রতি মণ (৪০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন খরচের সাথে এ দাম কোনোভাবেই অপার্যाप्त নয়।
উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) বিল্লী গ্রামের কৃষক সারোয়ার জাহান চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার আমি ধান কেটে মাড়াই সম্পন্ন করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির জন্য যাই। কিন্তু কেউ কেনার আগ্রহ দেখায়নি। শেষে একজন ব্যবসায়ী ৮০০ টাকা মণ দরে কিনতে রাজি হয়।” তিনি জানালেন, এ দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচও উঠবে না। বরং তার এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে।
তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাজারো কৃষকও উপঢৌকনে একই অবস্থায়। তারা বলছেন, সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায় ধানের উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ তারা বর্তমানে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী অঞ্চল হলেও বর্তমান মৌসুমে আমের বাজারে ভয়াবহ দরপতন ঘটেছে। চাষিরা অভিযোগ করেন, গত এক দশকের মধ্যে এবার আমের দাম সবচেয়ে কম। বাজারে ক্রেতার অভাব থাকার কারণে অনেক বাগানে পাকা আম গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে কৃষকরা জানাচ্ছেন, যদি চলতি মৌসুমে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে অনেক বাগান মালিক বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হয়ে পড়বেন।
তানোর পৌরসভার কালীগঞ্জহাট মহল্লার কৃষক রনি চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বর্তমানে তার আলু হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন প্রতি কেজি আলু মাত্র সাড়ে ১৭ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়া মিলে আমার প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ টাকা। দাম না বাড়লে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে বহু কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। চলতি বছরেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পেঁয়াজ ও রসুন চাষেও হতাশা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, এ দামে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব নয়।
তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের দুই রসুন চাষি সাদেক ও তার সহযোগীরা জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে তারা রসুন চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবারও দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন, তবে বাজারমূল্য কম থাকার কারণে তারা রসুন বিক্রি না করে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। তারা জানান, “গত বছরের মতো এবারো দাম না পেলে আমরা আগামীতে আর রসুন চাষ করবো না।”
স্থানীয় কৃষকগণ রসুন উৎপাদন করলেও বিদেশি রসুন আমদানির কারণে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। রসুন চাষিদের মতে, দেশে উৎপাদিত রসুন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু আমদানি নির্ভর নীতির কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, একটির পর এক ফসল কার্যকর লোকসান হচ্ছে বলে তারা ব্যাংক ক্লোজিংয়ের কারণে ধান ক্রয়ে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। এর ফলে বাজারে ধানের চাহিদা কমে যাচ্ছে এবং দাম নিম্নমুখী হচ্ছে। তাদের দাবী, জুলাই মাস থেকে ধানের বাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কৃষকেরা বলছেন, প্রতি বছর একই ধরনের অজুহাত দেখানোর মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মন্তব্য করছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন। বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয় এবং আমদানি নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। কৃষকদের মত অনুযায়ী, তাদের যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর, যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম। গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, তাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না এবং রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর, কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর, ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ