০১:৪১ পি.এম
প্যারিসের দক্ষিণের একটি বনে দুইটি দাবানলে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।
এই ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে অগ্নিসংযোগকারী সন্দেহে গ্রেফতার করেছে।
রোববার রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ফঁতেরব্লো বনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এক সময় এটি ফরাসি রাজপরিবারের শিকারের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে বনের চারপাশে রয়েছে শান্ত ও নিরিবিলি গ্রাম।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত
ফ্রান্সের আরবোন-লা-ফোরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ ধরনের খবর প্রকাশ করেছে।
যখন নতুন তাপপ্রবাহের কারণে অঞ্চলটি তীব্র গরমে পুড়ছিল, তখন দেশের উত্তরাঞ্চলে বিরল এই দাবানল দ্রুত ইউন্সেকোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দীর্ঘ ছুটির ভ্রমণ মৌসুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে শুরু করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার দিনভর আকাশে বিমান এবং মাটিতে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে শক্তিসাধন করছেন।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি
তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে আরও একটি দাবানলের সূত্রপাত হয়ে যায়, যার ফলে প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ফঁতে’ব্লো এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া দুই সন্দেহভাজনের একজনের বয়স ১৮ বছর। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আটক করার সময় তার হাতে কালির দাগ ছিল এবং তার কাছে একটি লাইটার পাওয়া গেছে।
৩৭ বছর বয়সী ক্লেমঁ বোয়ের, একজন স্থানীয় বাসিন্দা, জানান, রোববার রাতে বনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার সতর্ক ছিল।
তিনি বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের যানবাহন প্রস্তুত। একটি ব্যাগও গুছিয়ে রাখা হয়েছে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’
আরও পড়ুন: তুরস্কের আফিয়নকারাহিসারে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮, আহত ১
দাবানলের ব্যাপকতার কারণে বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে প্রথমবারের মতো চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়। এছাড়া দুটি ড্যাশ বিমান এবং তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে থাকা কর্মকর্তা জ্যঁ-মার্ক সিকার সোমবার সন্ধ্যায় জানান, মোট ১৮৭ বার আকাশ থেকে পানি ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাত নামার পরও প্রায় ৬০০ দমকলকর্মী মোতায়েন ছিলেন। তারা পালাক্রমে মাটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন এখনও ছড়িয়ে পড়ছে।’ কারণ সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি 'খুব একটা অনুকূলে ছিল না’, যদিও কিছু সময়ের জন্য আগুনের তীব্রতা কমেছিল।
আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ২০ স্পিডব্রেকার, যানজট বেড়েছে
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘ব্যতিক্রমধর্মী বড় এই দাবানল’ মোকাবেলায় সব ধরণের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।
নুনেজ বলেন, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘১ হাজার মিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ১০টি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে।’
এই ঘটনায় তিন মাসেরও কম সময়ে ফ্রান্সে এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ। গত এক সপ্তাহে দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্যাংক ধসের কারণে পদত্যাগ
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই ধরনের প্রাণঘাতী চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন