ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক


জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। তারা জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে থাকা একটি শিশুর জটিল জন্মগত ত্রুটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে সংশোধন করেছেন।

চিকিৎসকদের এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের কারণে বর্তমানে পাঁচ মাস বয়সী শিশু থিও সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে।

থিওর মা মেইজি স্যাভেজ, যিনি ২৯ বছর বয়সী এবং লন্ডনের বাসিন্দা। গর্ভাবস্থার ২৬তম সপ্তাহে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অস্ত্রোপচার করান। শিশুটির সমস্যা ছিল গ্যাস্ট্রোস্কিসিস। এই অবস্থায় ভ্রূণের নাভি ঠিকভাবে গঠিত হয়নি, ফলে অন্ত্রসহ কিছু অভ্যন্তরীণ অঙ্গ শরীরের বাইরে চলে আসে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু

চিকিৎসকেরা অত্যাধুনিক কিহোল বা ক্ষুদ্র ছিদ্রের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ব্যবহার করে মায়ের জরায়ুর অংশ উন্মুক্ত করেন। এরপর তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশু থিওর বাইরে থাকা অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গগুলো আবার পেটের ভেতরে স্থাপন করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

বিশ্বের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় এভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। থিও তৃতীয় শিশু, যে এই অস্ত্রোপচারের সুবিধা পেয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, যুক্তরাজ্যে বছরে প্রায় তিন হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন গ্যাস্ট্রোস্কিসিস নিয়ে জন্মায়। এই ধরনের সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বেশির ভাগ সময় তিন সপ্তাহের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয় এবং তাদের টিউব বা শিরার মাধ্যমে পুষ্টি দিতে হয়। অস্ত্রোপচার দিতে হয় জন্মের পর।

তবে জটিল গ্যাস্ট্রোস্কিসিসে আক্রান্ত শিশুরা আরও গুরুতর সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের ছয় মাসের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হতে পারে, একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে এবং এমনকি দুই বছর পর্যন্ত শিরার মাধ্যমে পুষ্টি দিতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্র প্রতিস্থাপনও প্রয়োজন হয়। উন্নত চিকিৎসার পরেও প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত

থিওর বাবা-মা, মেইজি স্যাভেজ এবং জশ ফ্রেঞ্চ, দু’জনেই শিক্ষক। তারা জানান, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে তারা প্রথমে সমস্যার সম্পর্কে জানেননি।

জশ বলেন, “আমরা শুধু আমাদের সন্তানের ছবি দেখার জন্য উচ্ছ্বসিত ছিলাম। তখনও জানতাম না আমাদের ছেলে হবে।”

কিন্তু পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির গ্যাস্ট্রোস্কিসিস হয়েছে এবং তা সাধারণ নয়, বরং জটিল ধরনের। এর পর লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

একটি দল, টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালের ভ্রূণ ও শিশু সার্জনদের, এই অস্ত্রোপচারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করে। দলের নেতৃত্ব দেন প্রসূতি ও ভ্রূণ সার্জারি বিশেষজ্ঞ ড. মাইকেল বেলফোর্ট।

আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড

অস্ত্রোপচারের আগে মেইজি স্যাভেজকে বেলজিয়ামের লুভেন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা মায়ের জরায়ুর মাধ্যমে ভ্রূণের পেটের দেয়ালে বোটক্স ইনজেকশন প্রয়োগ করেন, যাতে মাংসপেশি শিথিল হয় এবং অস্ত্রোপচার সহজ হয়।

বেলজিয়াম থেকে টেক্সাসে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত বছরের নভেম্বরে, গর্ভাবস্থার ২৬তম সপ্তাহে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা মায়ের জরায়ুর একটি অংশ বাইরে এনে ভ্রূণকে উপযুক্ত অবস্থানে স্থাপন করেন। এর পর জরায়ু থেকে অ্যামনিয়োটিক তরল বের করে তার জায়গায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রবেশ করানো হয়, যাতে অস্ত্রোপচারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়।

পরে কিহোল সার্জারির মাধ্যমে শিশুটির বাইরে থাকা অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ ধীরে ধীরে পেটের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় এবং ক্ষতস্থান সেলাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য আহত

অস্ত্রোপচারের পর মেইজির শরীরে সিজারিয়ান অপারেশনের তুলনায় বড় একটি দাগ থেকে যায়। তবে অস্ত্রোপচারের পরেও তাকে আরও ১৪ সপ্তাহ গর্ভে সন্তান ধারণ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “সেরে ওঠাটা খুব কঠিন ছিল। থিও প্রায়ই নড়াচড়া করত, ফলে ক্ষতস্থানে ব্যথা হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কষ্টই সার্থক হয়েছে।”

অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফল হওয়ায় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গর্ভধারণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসেই স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে থিও জন্ম নেয়।

বর্তমানে তার বয়স পাঁচ মাস এবং সে স্বাভাবিক শিশুদের মতো বেড়ে উঠছে। ড. মাইকেল বেলফোর্ট বলেন, “মা, শিশু, অস্ত্রোপচারের সময়—সবকিছুই অসাধারণ ছিল। ভ্রূণের ওপর অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি।”

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে আবারও উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি, নেপথ্যে ই-মেইল

গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক পাওলো ডে কপ্পি জানান, চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলে খুব শিগগিরই যুক্তরাজ্যেও এই অস্ত্রোপচার শুরু হবে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক রোগীকে এই চিকিৎসাসেবা দিতে পারব।”

ড. বেলফোর্টও আশাবাদী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মায়ের গর্ভেই হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কিছু জটিল অস্ত্রোপচারও করা সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে থিও। মেইজি বলেন, “চিকিৎসকেরা যা করেছেন, তাতে ওর জীবনের শুরুটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন ও একেবারে স্বাভাবিক একটি শিশু।”

থিওর বাবা জশ বলেন, “আমরা নিজেদের খুবই ভাগ্যবান মনে করি। চিকিৎসকেরা শুধু আমাদের সন্তানের জীবনই বদলে দেননি, আমাদের পুরো পরিবারকে নতুন জীবন দিয়েছেন। এত কঠিন সময়ে তারা যেভাবে পাশে ছিলেন, তা আমরা কোনও দিন ভুলব না।

আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারাজকে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


পদ্মা ব্যারাজকে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে: ড. তিতুমীর

 দেশীয় প্রযুক্তি এবং জনগণের বাস্তব চাহিদা কেন্দ্র করে পদ্মা ব্যারাজের মতো বহুমাত্রিক জাতীয় পরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা ব্যারাজকে শুধুমাত্র একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি পরিবেশ, মানুষ এবং নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বিস্তারিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নীতিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই সংলাপটির আয়োজন করেছে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।

দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বিপ্লবী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই খাতে স্থবিরতা ছিল। এদিকে ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং পরিবেশগত বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পটির নকশায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, উজানের নদীগুলোতে এখনও প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এই অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা এবং আন্তর্জাতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে, এটি তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনা সবসময় ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়।

আলোচনায় বলা হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে ৭টি আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. তিতুমীর জানান, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটের এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে সুন্দরবনের ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা এবং ইছামতীর নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে যশোরের ভবদহ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি এবং অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রকল্পটির অবদান হতে পারে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত।

প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের সব মানুষের অর্জন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের সব মানুষের অর্জন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই: জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক चर्चा সভায় কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোন একটি বিশেষ দল, গোষ্ঠী বা গ্রুপের অর্জন নয়, জুলাই এ দেশের সব মানুষের অর্জন হিসেবে গণ্য। মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো আন্দোলন সংগ্রাম হঠাৎ করে উদ্ভূত হয় না, এইসকল ঘটনায় অনেকটা ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে অবশেষে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরো বলেন, গত ১৭ বছরে মানবাধিকারের সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করা হয়েছে জিয়া পরিবার এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলীর মতো বহু নেতাকর্মী গুম-খুন করা হয়েছে, যাদের অবস্থান এখনও তাদের পরিবার খুঁজে পায়নি। বর্তমান স্বৈরাচারিরা দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভাজন সমাজের জন্য দুর্ভোগ নিয়ে আসবে, তাই সকলের ঐক্য প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ এবং যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি জানান, সরকার বর্তমানে জুলাই জনগণের যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দরা বলেন, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, জুলাই এককভাবে যেন কারো পকেটবন্দি না হয় এবং তারা প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদেরকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

সভার স্বাগতিক বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বজনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে অক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


স্বজনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে অক্ষর

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ের সময় দড়ি ছিঁড়ে নিহত অক্ষর সৌভিক রায়ের মরদেহ সোমবার সকাল ১১টা ১১ মিনিটে খুলনা নগরীর যশোর রোডের ভাড়া বাসার সামনে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবিটি : কালের কণ্ঠ

গোটা পরিবার শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে। তবে সেই অশ্রু বিগত শোকের মধ্যে ক্ষোভের আগুন বেঁচে রয়েছে।

অক্ষর সৌভিক ছিলেন পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। তবু ছোট বোন শীর্ষা রায় চোখের জলে ভাইয়ের মুখাগ্নি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ের সময় দড়ি ছিঁড়ে মারা যাওয়া খুলনার তরুণ অক্ষর সৌভিক রায়ের মরদেহ সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ১১টা ১১ মিনিটে লাশবাহী গাড়িতে খুলনায় পৌঁছায়।

মরদেহটি প্রথমে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের পাশে ছয়তলা ভবন দোলনের সামনে কিছু সময় রাখা হয়। পরে ভবনটির চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে শোকাহত মা, ছোট বোন ও অন্যান্য স্বজনরা নেমে আসেন। মৃত অক্ষরকে একনজর দেখতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন। তাদের অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। শোকে মা শুক্লা রায় বারবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছিলেন।

অরা পরবর্তী সময়ে মরদেহ নিয়ে যান রূপসা মহাশ্মশানে। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে অক্ষরের চাচা সাত পাক ঘুরে আগুনের মশাল তুলে দেন ছোট বোন শীর্ষা রায়ের হাতে। ঠিক দু'মিনিট পর, দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে ভাইয়ের চিতায় মুখাগ্নি করেন শীর্ষা।

এই অশ্রুসিক্ত মুহূর্তে অক্ষরকে সর্বশেষ বিদায় জানানো হয়।

মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, অক্ষরের ভগ্নিপতি আলিমুজ্জামান সিফাত। তিনি বলেন, প্যারাসেইলিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কক্সবাজারে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন অক্ষর। ফলে তার বোন কক্সবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

আলিমুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, দুর্ঘটনার দায় শুধুমাত্র প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের? তার অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা অক্ষরের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তার মা ও বোন।

আলিমুজ্জামান জানান, প্যারাসুটের দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার পর অক্ষর সাগরের জলে পড়েন এবং মারা যান। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরে বলা হয়েছে অক্ষর যে প্যারাসেইলিংয়ে উঠেছিলেন, সেটি অবৈধ ছিল। যদি সেটি অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কিভাবে পরিচালনা করা হচ্ছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকে দিতে হবে।

‘মানুষ আনন্দ ও বিনোদনের জন্য কক্সবাজারে যায়। সেখানে বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভেবে পর্যটকরা এসব সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সেই দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই জেলা প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে’—এ কথা বলেন আলিমুজ্জামান। তিনি অক্ষরের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের সঠিক বিচার দাবি করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জুনে অক্ষরের বাবা মারা যান। তারপর থেকেই পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অক্ষর। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে বর্তমানে লোয়ার যশোর রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তারা। অক্ষরের মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে।

অক্ষরের স্কুলবন্ধু রিফাত হাসান শুভ বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণের মূল্য আছে। আমরা জীবনের মূল্য চাই। অক্ষর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিত্ব ছিল। এখন তার মা ও দুই বোন কিভাবে টিকে থাকবে? সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।’

রিফাত জানান, গত ৩১ জুলাই ছিল অক্ষরের প্রয়াত বাবার জন্মদিন। সেদিন বাবাকে স্মরণ করে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন অক্ষর। পরদিনই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

অন্য একজন বন্ধু মোস্তফা আমিন তনু বলেন, ‘আগের দিনও অক্ষরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুর মৃত্যুর ভিডিও দেখতে হয়েছে। আমার বন্ধু তো আর ফিরে আসবে না।’

তনুর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের আচরণও হতাশাজনক ছিল। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা গাড়িতে উঠে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, অক্ষরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংসহ সকল ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন কার্যক্রমে কঠোর নিরাপত্তা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এমন শোক আর কোনো পরিবারকে সহ্য করতে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান

"বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানটিতে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ নার্সারি মালিকদের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। অনুষ্ঠানটিতে সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বৃক্রমেলায় অংশগ্রহণকারী নার্সারি মালিকবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ, নারায়ণগঞ্জ || ০৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%