০৫:২৪ পি.এম
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরবর্তী কালে ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের ওখমাতদিত শিশু হাসপাতালে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন।
যেমনটা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা সত্যি হয়ে আসছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের জন্য জুলাই মাস এখন সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্মের মাস।
গত মাস, অর্থাৎ জুন মাসের ২৯৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কারণে এটি ছিল সবচেয়ে হতাহত পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে, জুলাইয়ের মাস জুনের সংখ্যাকে অতিক্রম করতেই পারে, এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তের আগেই জুলাই এবার সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য।
ইউক্রেনের সরকারি তথ্য অনুসারে, চলতি মাসে রাশিয়ার হামলায় বর্তমানে অন্তত ৩৭৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ২,১২৯ জন আহত।
চলতি মাসের হামলাগুলিতে উচ্চ সংখ্যার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিরোধ করা বেশ কঠিন। এগুলো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে একাধিক বার লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ করেছে। এই কারণেই হতাহতের সংখ্যা অত্যন্ত বিপজ্জনক গতি বাড়ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ‘রাশিয়া গত সপ্তাহে প্রায় ১,৭০০টি ড্রোন, ১,৬৩০টিরও অধিক গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
জেলেনস্কি রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যালিস্টিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই বাজিতে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই মুহূর্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মূলত জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে। তবে সেগুলো আমাদের সহযোগীদের গুদামে থাকলে হবে না, বরং সেগুলো অবশ্যই ইউক্রেনীয় ব্যবস্থায় থাকতে হবে।’
জেলেনস্কি প্রায় সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্যাট্রিয়ট এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছেন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার চের্নিহিভে একটি সুপারমার্কেটে রুশ ড্রোন হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুসহ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
তবে ইউক্রেন গত সপ্তাহে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযানের কারণে রাশিয়া বছরের শেষ নাগাদ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক শনিবার বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ভাববে।
ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার শনিবার জানিয়েছে, ‘রাশিয়ার অনেক এলাকা এবং দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো এখনো জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। যদিও রুশ কর্মকর্তারা ক্রমাগত এমন ভাব দেখাচ্ছেন যে, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জ্বালানি সংকট স্থিতিশীল হচ্ছে।’
উত্তরে রাশিয়াও উত্তর ইউক্রেনের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে হামলায় নামছে এবং কৃষ্ণসাগর ও দানিয়ুব নদীর তীরে ইউক্রেনীয় বন্দরের ওপর নিজেদের হামলা জোরদার করেছে।
আরও পড়ুন: বার্লিনে জার্মান পার্লামেন্টের সামনে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন বিক্ষোভকারীরা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার জন্য জুন মাসে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিকল্পনার অধীনে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো, স্যাটেলাইট কেন্দ্রসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
শুরুর দিকে ইউক্রেন বেশ সাফল্য দেখিয়েছিল। রাশিয়ার মতো তেল উৎপাদনকারী দেশে তীব্র জ্বালানী সংকট দেখা দেয়। কিন্তু ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি বদলে যায় যেন ভিমরুলের চাকে ঢিল দেয়ার মতো। পুতিন ইউক্রেনের চাপে কাবু হওয়ার ব্যক্তি নন। বরং রাশিয়া তীব্র পাল্টা হামলা চালাতে থাকে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ আবার একদম তার শুরুর পর্যায়ের তীব্রতায় ফিরে গেছে। ফলে দুই পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন