১০:১৪ পি.এম
চাঁদপুর জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে নদীমাতৃক নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, শিল্পকলা একাডেমি হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রাণকেন্দ্র। ৫ আগস্টের হামলা ও অগ্নিসংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এই অডিটোরিয়াম কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, এই উদ্দেশ্যে তিনি চাঁদপুরে এসেছেন সংসদ সদস্যের আমন্ত্রণে। তিনি চাঁদপুরের সংসদ সদস্য পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করছেন এবং জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জেলা প্রশাসকও অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানে অতিথিদের নাম বারবার ঘোষণা করা হয়নি এবং মঞ্চেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক আসন রাখা হয়নি। অনুষ্ঠানের প্রতি এখানকার ব্যবস্থাপনা একদল হয়ে কাজ করেছে, যা তার নজর কেড়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই মঞ্চের অনেক শিল্পী ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কৃষি ও পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, লবণাক্ততার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত পানি পেয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারেন।
আরও পড়ুন: ফেনী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট ক্লাবের আত্মপ্রকাশ: সভাপতি রাজন, সম্পাদক শুভ
তিনি আরো বলেন, মাদক ও নেশার ভয়াবহ বিস্তার আমাদের যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলা করার বিকল্প নেই সাংস্কৃতিক চর্চার। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সৃজনশীল পথে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, প্রধান অতিথি শুধু একজন প্রতিমন্ত্রী নন, তিনি সংস্কৃতিমনা ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আস্থার ফলেই তিনি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরে সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র এই শিল্পকলা একাডেমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুর্বৃত্তদের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী করা হলেও একাডেমিটিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। এই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রধান অতিথির মাধ্যমে মিলবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. খাইরুল কবির, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএমএন জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহাবুব আনোয়ার বাবলু, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, সহ-সভাপতি ডি এম শাহাজাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. মো. বাবর বেপারি, পিপি অ্যাডভোকেট কোহিনুর বেগম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মোশাররফ হোসাইন, অ্যাড. সামছুল ইসলাম মন্টু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ও বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে ঢাকা ও চাঁদপুরের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীর পটভূমিতে রচিত গান, নৃত্য, কবিতার আবৃত্তির মাধ্যমে নদীর প্রভাব ও লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহাগের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বর্ণাঢ্য র্যালি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন