০৯:৫৩ এম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাজারে অধিক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে, স্বর্ণের দাম অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের দিকে এগোচ্ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গিয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।
এই মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন রেকর্ড করছে। আরো উল্লেখ্য, একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
২০২৪ সালের পর এটিই বুলিয়নের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন। পাশাপাশি ২০১৩ সালের জুনের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভূত মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির আলোচনা জোরালো হয়েছে।
মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার এই বিষয়ে বলেন, বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হারের প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী ডলার-এই তিনটি বিষয় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পক্ষে থাকা অন্যান্য ইতিবাচক কারণকে সহজেই ছাপিয়ে যাচ্ছে।
যদিও স্বর্ণকে দীর্ঘকাল ধরে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে, তবে উচ্চ সুদের হার পরিবেশে এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা এখন চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। আরও উল্লেখযোগ্য, সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৪ শতাংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন এ সপ্তাহে প্রকাশিতব্য জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
অন্যদিকে, মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো লাভের পথেই চলছে। এর ফলে, অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক মূল্যবান ধাতু কেনা আরও ব্যয়সাধ্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে, এ সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের দিকে বিনিয়োগকারীরা মনোযোগ দিচ্ছেন। যদিও ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সময়, তেলের দাম ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।
এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়বে। ফলে, যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর
এর আগে সবশেষ গত ২৯ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে এই মূল্যবান ধাতুর দাম ৩ হাজার ০২৬ টাকা কমানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমে গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে স্থিত হয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এই তিনটি ধাতুই মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের পথে রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে শর্ত শিথিল করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন