০১:৩২ পি.এম
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে হাসি বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসি বেগম (৩৫) ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার কন্যা। স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে পুলিশ আটক করেছে এবং তাকে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। মোসলেহ উদ্দিন (৪৫) ওই গ্রামের মৃত রেনু মিয়ের ছেলে। তিনি গত ৩৩ বছর ধরে কুয়েতে ছিলেন, এবং ৬ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে, সাইমন হোসেন (১৯) এবং খাদিজা আক্তার (১৬)। সাইমন মিরপুরে জাপানি ভাষা শিখছেন, এবং খাদিজা স্থানীয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, মোসলেহ উদ্দিন প্রায়ই হাসি বেগমের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন, যেটি পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের কারণে হত। প্রতিবেশী এবং সন্তানদের বাধা দিয়েও তিনি আচরণ পরিবর্তন করতেন না। উল্লেখ্য, মারধর ও নির্যাতনের কারণে কয়েক দফা বিচার-সালিশ হয়েছে। ঘটনার দিন, দুপুরে অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন হাসি বেগমকে মারধর করে। তার মেয়ে খাদিজা স্কুল থেকে ফিরে এসে মাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
আরও পড়ুন: কসবায় দু'পক্ষের সংঘর্ষে জনজীবন বিপর্যস্ত
স্থানীয়রা হাসি বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসি বেগমের মেয়ে খাদিজা আক্তার বলেছিলেন, ‘আমার বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ করত। বাবা মাকে মারধর করতেন, আমরা বাধা দিলেও তিনি শুনতেন না। আজকে আমি স্কুল থেকে এসে দেখি মা ঘরে পড়ে আছে। ঘরের আসবাবপত্র ওলট-পালট হয়ে আছে। মায়ের ঠোট ও মুখে রক্তের দাগ। মা মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলেছে, আমারে খালি ঘরে পেয়ে তোর বাবা মারছে। আমি মরে গেলে তোর নানার বাড়িতে আমারে দাফন করবি। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি। পরে প্রতিবেশীরা তাকে ধরে দেবিদ্বার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
হাসি বেগমের ছেলে সায়মন হোসেন জানিয়েছেন, ‘প্রতিবেশী কুলসুম বেগমের সঙ্গে আমার বাবার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ঘরে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হত। কুলসুম বেগম যা বলে আমার বাবা ঘরে এসে তা-ই করে। এই কুলসুম বেগমের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে মা বাধা দেওয়ায় মাকে মারধর করছে। আমি ঢাকায় থাকি। দুপুরে মা আমাকে ফোন করে মারধরের কথা জানালে আমি আমার এক বন্ধুকে বাড়িতে পাঠাই। সে এসে আমাকে জানায় মাকে নাকি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমি আসতে আসতে আমার মা মারা যায়।’
হাসি বেগমের ভাই শাহ পরান বলেছেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে দেখি গায়ের মারধরের দাগ। গলা ঠোট ফোলা, চোখের কোনায় রক্তের দাগ। আমার বোনকে নির্যাতন করে মারছে এটা স্পষ্ট বোঝা যায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী আস্তানায় ৩ মরদেহের সন্ধান মেলেনি
অপরদিকে, অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, ‘দুপুরে আমার গায়ের গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই একটা চর-থাপ্পর দিয়েছি এটা সত্য কিন্তু এই চরথাপ্পরে তো আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার কথা না। আমার এই মারধরে যদি আমার স্ত্রী মারা যায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি এমন তথ্য আসে তাহলে আমার যে শাস্তি হয় আমি মাথা পেতে নেব।’
তিনি পরকিয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘পুরো গ্রামে খবর নেন, আমার কারো সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে কিনা। আমি ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে এসেছি। আমি ৩৩ বছর কুয়েতে ছিলাম। পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’
এদিকে, দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে নিহত হাসি বেগমের চোখের কোনায় ও গায়ে কিছু মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলেছে।’
আরও পড়ুন: সাভার থানা থেকে ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন