০৫:৪৬ পি.এম
চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ খালি রাখতে হবে এবং সরকারি রেট অনুযায়ী নির্ধারিত কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে।
এছাড়া, অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এই ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত কিট, স্যালাইন মজুদসহ সরকারের নানা প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, প্রায় দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সময় বেসরকারি হাসপাতালগুলি ১০ শতাংশ বেড খালি রাখবে এবং সরকারি রেট অনুযায়ী কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া যাবে না।
সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথা জোর দিয়ে বলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আগাম সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সরকারের ডেঙ্গু মোকাবেলার প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের জবাবদিহিতা, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ, ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন স্তরে চিকিৎসাসেবা থেকে অবগত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উত্তরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম হয়েছে। রোগ মোকাবেলা করতে গত দুই মাস ধরে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মশা ও লার্ভা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
মন্ত্রী আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট সরকারি গুদামে মজুদ রয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এবং সিএম পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও, ১ লাখ ৬৬ হাজার আরডিটি টেস্ট কিট মজুদ রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরো ৫ লাখ কিট যোগ হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্যালাইন সংকট যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি সংসদে উল্লেখ করেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে। সঙ্গে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে যেকোনো পরিমাণ স্যালাইনের চাহিদা মেটাতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমে মন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তবতার অমিল নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জেলা সদর হাসপাতালেই আইসিইউ নেই, সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা কীভাবে পৌঁছাবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি ও মেডিসিন চিকিৎসকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের তাগিদ দেন। তিনি জানতে চান, ডেঙ্গু বৃদ্ধি পেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা থাকবে কিনা।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তিনি উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে আইসিইউ দেওয়ার কথা বলেননি। তবে দেশের ১২টি জেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো ৫টি জেলায় এটি চালু হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন