১০:২৪ পি.এম
দেশের যুব সমাজ বর্তমানে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইনে জুয়া এবং বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এই অবস্থায়, পুরনো আইন পরিবর্তন করে সাজা বাড়িয়ে জুয়া প্রতিরোধে একটি নতুন বিল সংসদে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বিল সম্পর্কে দেয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে যা বিদ্যমান আইন, তা অপ্রতুল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন
এদিকে, ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইন করতে নতুন বিলটি আনা হয়েছে। এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যার জন্য ১৪ ধরনের সাজা বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত হন, তবে সেই ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বাধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় পদ্ধতিতে দণ্ডিত করা হবে।
অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে জড়িত হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বাধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
কিন্তু যদি কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হন, তাহলে তিনি সর্বাধিক সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বাধিক পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে বা উভয় ধরনের দণ্ড হবে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন