০২:১৩ পি.এম
বরিশালের বাবুগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান অভিযুক্তদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ১ আগস্ট মো. জসিম উদ্দিন (৪৫) বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি থানার মামলা নম্বর-০১, জিআর নম্বর-৪৪/২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জসিম উদ্দিন একজন মুদি দোকানি। অভিযুক্তরা তার আত্মীয় ও একই এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর পৈতৃক সম্পত্তিতে গিয়ে ধান রোপণে বাধা দেন এবং হুমকি দেন। পরে বাদী দোকান খুলে ভাই মাহাবুবুর রহমান ও ভাতিজা নাঈম হোসেন নিলয়কে দোকানের সামনে রেখে বাসায় গেলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. রিয়াজ রামদা দিয়ে মাহাবুবুর রহমানের মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার কবজিতে গুরুতর জখম হয়। একইভাবে আমিনুল ইসলাম নাঈম হোসেন নিলয়ের মাথায় কোপ দিলে তার হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে।
পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় রানী বেগম বটি দিয়ে বাদীর স্ত্রীকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে রিয়াজ ও আমিনুল ইসলাম রামদা দিয়ে ওই নারীর মাথা ও কানের ওপরের অংশে আঘাত করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল খালেক মোল্লাও হামলার শিকার হন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড, পাইপ, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
মামলায় মো. রিয়াজ (৩০), আমিনুল ইসলাম (১৬), মো. আবির (২৫), রানী বেগম (৪৫), মো. ফারুক হোসেন মোল্লা (৫৫), মো. শাজাহান হাওলাদার (৬২), মনোয়ারা বেগম (৫০), মো. মিরাজ হোসেন (৩৫) ও রিপা বেগম (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আহত মাহাবুবুর রহমান, নাঈম হোসেন নিলয় ও এক নারীকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অপর আহত আব্দুল খালেক মোল্লা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। বাদীপক্ষ যদি আসামিদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন