০৮:১০ এম
নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকায় সুদের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এক অটোরিকশাচালককে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রাখা হয়। তাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকালে ৪টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী মো. রিপন ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম, যে কোনো নামেও পরিচিত কেদা কাশেম, সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী রিপন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বছর অটোরিকশা কেনার জন্য আমি চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের কাছ থেকে সুদে এক লাখ টাকা ধার নেই। পরবর্তীতে আমি সেই এক লাখ টাকা পরিশোধও করি। কিন্তু এরপরও আমার কাছে সুদের আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।’
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত
রিপনের ভাষ্যমতে, তিনি হাতিয়ার চানন্দি ও হরণি ইউনিয়ন এবং সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুই দিন আগে আল আমিন বাজার এলাকা থেকে কেদা কাশেমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে চোখ বেঁধে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কমান্ডার বাজার এলাকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে দুই দিন তাকে অর্ধাহারে-অনাহারে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা অটোরিকশাটি বিক্রি করে অভিযুক্তদের ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। উল্টো সুবর্ণচরের ভূঁইয়ারহাট এলাকায় কেদা কাশেমের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তার পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, রিপনকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় আরও দুই যুবক অভিযুক্তদের হাতে আটক হন। তাদের পরে প্রশাসন ও পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাশীষ সরকার জানিয়েছেন, ‘ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন