০১:২৬ পি.এম
রাজধানী গুলশানের বর্তমান বাসভবনে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কারণে সরকারের পক্ষ থেকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনটিকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই বাসভবনসহ এর চারপাশের এলাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন আয়োজিত কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এই বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যদিও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
বাসভবনের মালিকানা সম্পর্কে জানা যায়, গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে বাড়িটির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর গুলশানে প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে নামজারি সম্পন্ন করার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান ওই বাসভবনে অবস্থান শুরু করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে একটি পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করবেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও।
নিরাপত্তা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে। তার ওপরে আরও তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকারের কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি, ছবি তোলা অথবা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি স্থাপনার চারপাশে পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষার স্বার্থেই গুলশানের এই বাসভবনটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ষপূর্তিতে রোগীদের সেবায় ঢামেকের নার্সিং কর্মকর্তাদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন