০৩:৪৯ পি.এম
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বারা প্রদত্ত দুটি বিশেষ তরমুজ সম্পর্কে মন্তব্য করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বিপরীতে পড়েছেন।
জাপানে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি তার মন্তব্যকে ‘যৌনতাবাদী’ এবং অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে আলবানিজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা যায়, গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুটি বিশেষ তরমুজ উপহার দেন। পরে ‘বুশ ডিপ’ নামক এক অনুষ্ঠানে সেই উপহার নিয়ে মন্তব্য করার সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হরি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী নিকি অসবোর্ন যখন তরমুজের কথা উল্লেখ করেন, তখন আলবানিজ বলেন, ‘তাঁর কাছে দুটি ছিল, আর সেগুলো সুন্দর।’ এই মন্তব্য ও তার অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়।
জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের মন্তব্য ‘যৌনতাবাদী কৌতুক’ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি উল্লেখ করেন, আলবানিজের এমন মন্তব্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অপমানিত করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জাপানে এসব বিশেষ তরমুজ অত্যন্ত মূল্যবান ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং একটি তরমুজের দাম ৩০ হাজার ইয়েনেরও বেশি হতে পারে। ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের উচিত, তিনি জাপানের মিষ্টি ও রসালো তরমুজের আনন্দ নেবার সময় সেগুলোকে নারীর শরীরের সঙ্গে তুলনা না করে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল আলবানিজের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। বিরোধীদল নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও মন্তব্যটিকে অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: মদিনায় ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা
তবে, আলবানিজ তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি। এক বিরোধী সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটির বক্তব্য তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তার সরকার দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আলবানিজের পক্ষে তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও অবস্থান নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী ক্যাটি গ্যালাঘার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের রাজনৈতিক বিরোধী ও কিছু গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা ছিল অদৃষ্ট। সমাজসেবা মন্ত্রী তানিয়া প্লিবেরসেকও মন্তব্যটির ভিন্ন ব্যাখ্যাকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দাবি করেছেন।
এর আগে, একই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাইলি মিনোগ সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্যও আলবানিজ সমালোচিত হয়েছিলেন। উপস্থাপক তাকে কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও বিনোদনশিল্পী রোন্ডা বার্চমোর সম্পর্কে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। জবাবে আলবানিজ কাইলি মিনোগকে বেছে নিলেও পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
এবার নতুনভাবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তরমুজ নিয়ে মন্তব্য করার জন্য বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: আরাগচির সঙ্গে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন