১০:৩৭ এম
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের তৎপরতা থেমে নেই। এই প্রেক্ষাপটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজের নাম সামনে এসেছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং দেশ-বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাফিজের ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক তৎপরতা খতিয়ে দেখার সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সরকারের পতনের পর হাফিজ আরো সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালানো এবং ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মসূচিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও হাফিজের যোগাযোগ ছিল। তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য টেলিগ্রামে একটি গ্রুপ খুলেছিলেন। ওই গ্রুপে তার আরো দুই সহযোগী— কারাগারে থাকা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া আগে সক্রিয় ছিলেন।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
বিশেষ করে ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে হাফিজের যোগাযোগ ছিল বলে দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। পঙ্কজ দেবনাথ ছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের ভাষ্য, বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছিল। এ লক্ষ্যে নানা ধরনের তৎপরতার পরিকল্পনা করেছিলেন হাফিজ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার কথিত ভারত থেকে ফেরার বিষয়টি সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার পরিসরে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ উদ্দেশ্যে সাইবার সেলে সমন্বিত প্রচারণার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। তাদের যোগাযোগের ধরন, অর্থায়ন এবং কথিত পরিকল্পনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে
গত শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি বাসা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৩ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এতে গ্রেপ্তার দেখানো হয় হাফিজকে। মামলার অপর আসামিরা গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পরে তাকে সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। বর্তমানে হাফিজ ডিবির হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানেই তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হাফিজ। এ সময় সামরিক বাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাও যোগ দেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
আরও পড়ুন: সরকার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম
এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। ২০১৪ সালে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। হাফিজ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে তিনি মনোনয়ন পাননি।
সূত্র জানায়, হাফিজ নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। সেখানে সংযুক্ত হন গুলশান আরা ও দেবাশীষ। এছাড়াও আরো একাধিক ব্যক্তি এতে জড়িত ছিলেন। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ঢাকাসহ একাধিক জেলার নেতাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাইবার সেলে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিতেন। ভারতে পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তাদের কাছ থেকে কোন অর্থ তার কাছে এসেছে কি না সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠজনদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে সারের আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন