১১:০৭ এম
তুরস্ক ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সউদী আরবে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। তবে আঙ্কারা সউদী আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন।
ফিদান উল্লেখ করেন, সউদী আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। তিনি বলেন, "যদি কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হয়, তবে অন্য সদস্যরা তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে।" তুরস্কের সেনা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে না। সউদী আরবকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আঙ্কারার ভূমিকা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সউদী আরবের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তার বিষয়টি নির্ধারণে দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের জনবল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নাজরান অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি সিভিল ডিফেন্স
ফিদান জানিয়েছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব চুক্তিটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।" তবে বিদেশে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে তুরস্কের সাংবিধানিক বিধান ও পার্লামেন্টের অনুমোদনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সউদী আরবের নিরাপত্তা জোরদারে সম্মত সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোন দেশ কত সেনা বা কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গত আগস্টে সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। সাম্প্রতিক হুথি হামলার পর প্রথমবারের মতো চুক্তিটির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সউদী আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, জরুরি সাড়াদানকারী দল, পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা চূড়ান্ত মোতায়েন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক গত বছর থেকেই সউদী আরবে কারিগরি সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধসংক্রান্ত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে সম্ভাব্য নতুন মোতায়েনের পরিধি ও কার্যক্রম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় সউদী আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হুথিরা সউদী ভূখণ্ডে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের অবস্থান স্পষ্ট করে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সউদী আরবে বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আঙ্কারা মনে করছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারিতে তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া কারাগারে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন