০২:০৩ পি.এম
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। যদিও এর সাংবিধানিক মর্যাদা নেই, তবে সারাবিশ্বে এধরণের মন্ত্রিসভা রয়েছে। সময় হলেই আমরা এটি প্রকাশ করবো।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, গান বাজনার সংসদ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সংসদ হিসেবে দেখতে চাই। জনগণের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা দরকার। আমাদের একটি স্থিতিশীল সংসদ প্রয়োজন। আর আমরা সে দায়িত্ব পালন করছি।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
সরকারের গণভোট অগ্রাহ্য করার কারণে জাতীয় জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের জন্য আমরা চেয়েছি, বিএনপিও চেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেছি। কিন্তু বিএনপি তা গ্রহণ করেনি। বিএনপি বলছে, কারণ এটি সংবিধানে নেই, তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। কিন্তু সংবিধানে তো ড. ইউনূসের সরকারও ছিল না। তাদের আয়োজন করা নির্বাচনে তো বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছে। বিএনপি তাদের ভোটকে অগ্রাহ্য এবং অপমান করেছে। আমরা সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। কিন্তু সংসদ এমন ডিজাইনে সাজানো হয়েছে যে, আমাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু সংসদে বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তবে জনগণকে দেওয়া ওয়াদা থেকে জামায়াত সরে যায়নি। আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকারি দল এই জনরায়কে মানবে।
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণে সরকারি দল অনেক অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। জনগণ সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে, সংশোধনের নয়। তবে আলাপ আলোচনা চলছে। আশা করি, এই সংস্কারগুলো আমাদের সুস্থ রাজনৈতিক ধারা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তা না হলে দেশ আবারও বিপদে পড়বে।
বাজেট নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি ছায়া বাজেট পেশ করেছিলাম, এবং যেমন ধারণা করেছিলাম, তেমন বাজেটই হয়েছে। কালো টাকা সাদা বাতিলসহ কিছু বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি সরকারি দল আমলে নিয়েছে। আমরা জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অর্থ বছরের প্রস্তাব করেছিলাম। তবে এর কোনো সমাধান পাইনি।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক রবিউলকে নিয়ে সংসদ সদস্য মানসুরার মন্তব্য
তিনি আরও বলেন, সরকার বলেছে এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট। এই বড় বাজেট অপরাধ নয়। তবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং দুর্নীতি রোধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি বন্ধ না হলে আবারও বিদেশে টাকা পাচার হবে।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সরকারি ফ্ল্যাট নেওয়া নিয়েও কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে ফ্ল্যাট গ্রহণ না করার কথা বলিনি। এছাড়া এই ফ্ল্যাট একেবারে দেওয়া হয় না। এমপিদের বসবাসের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য এটি প্রদান করা হয়।
এসময় জামায়াত জাতীয় স্বার্থে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনে বিএনপিকে সহযোগিতা করেছিল বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর এবং জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে তিনি কোনো তৎপরতা দেখতে পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: শুক্রবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেবেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন