ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

উপকূলের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী


উপকূলের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাট, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট মোকাবেলায় ধাপে ধাপে প্রতিটি ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারি পুকুরগুলোর সংস্কার করা হবে এবং সেগুলোকে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা উপকূলের মানুষের নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা প্রদান করবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় রামপাল ও মোংলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ অঞ্চলের অধিকাংশ পানির উৎস লবণাক্ত। এমনকি অনেক টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহার উপযোগী নয়। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিরাপদ সুপেয় পানির অন্যতম কার্যকর উপায়। সেই লক্ষ্যেই পরিবারের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। সরকারি পুকুরগুলো সংস্কার করে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধারে রূপান্তর করা হবে। এসব পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেয়া হবে না, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন,

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রামপালে प्रतিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অতি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিরপুরে প্রাইভেট কারে ককটেল নিক্ষেপ, হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবি ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ, সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


চবি ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ, সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাত

খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিবাদ করায় সেই ছাত্রীর ওপর হেনস্তা করা হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল বেলা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে এই ঘটনা। পরে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জসিম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার তোফায়েল আহমেদের ছেলে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী বাসের জানালার পাশে বসে ছিলেন এবং পেছনের সিটে অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন। সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাতে তিনি শিক্ষার্থীর শরীরে স্পর্শ করেন। প্রতিবাদের কারণে অভিযুক্ত গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করলে হাটহাজারীতে অভিযুক্তকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফটিকছড়ির একটি বাসস্ট্যান্ডে সিএনজিচালিত রিকশায় এসে অভিযুক্ত পুনরায় একই বাসে ওঠেন। এরপর তিনি ওই শিক্ষার্থীকে আবারও শারীরিকভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাসের জানালার পাশে বসেছিলেন। পেছনের বসা ব্যক্তি সিগারেট ফেলার অজুহাতে তার শরীর স্পর্শ করেন। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে নানা রকম হুমকি দেন। পরে একবার অভিযুক্তকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ফটিকছড়ি পৌঁছানোর পর তিনি আবার বাসে উঠে এসে তার চুল ধরে টান দেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ঘটনাটি হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে। যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় নেওয়া হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম খান জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই উঠতে হয় সেতুতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই উঠতে হয় সেতুতে

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখের সামনে নজরে আসে একটি নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ পাকা সেতু। পূর্বে এটি ছিল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার পর প্রায় ১০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ১০ গ্রামের অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন একদম নীরব দর্শকের মতো রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকার একটি পাকা সেতুর অবস্থাও বর্তমানে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবের কারণে সেতুটির একটি অংশ মারাত্মকভাবে একপাশে হেলে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই জরাজীর্ণ সেতুটি এখন হাজারো মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়ে গেছে।

নড়বড়ে এই সেতুর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো বসিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এমন ভয় রয়েছে যে যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসময়ে জুন মাসে সেতুটির উদ্বোধন করেন তখনকার উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া।

সেতুটি নির্মাণের কিছু বছর পরে বন্যায় তিস্তার পানির তোড়ে এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় পথচারী এবং যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে পাটাতন বসিয়ে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

মৌলভি বাজার এলাকার এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া এটি কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় এলাকার জনগণ বাধ্য হয়েই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির এই খারাপ অবস্থার কারণে সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সেতুটি দিয়ে চলাচল আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেতুর সংযোগস্থল মাটি ভরাট এবং সেতুর সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছে এলাকাবাসী। তবে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শুধু আশ্বাস দিয়ে বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করছে। এর ফলে বিপুল দুর্ভোগ ও কষ্ট হচ্ছে, অথচ এলাকার এমপি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান বলেন, ওই ১০ গ্রামে মোট অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। সমস্যাটি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বড় সেতু তৈরির জন্য টাকা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, এই নড়বড়ে পাকা সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে ৪ থেকে ৫ বার আবেদন করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, মৌলভি বাজার এলাকায় নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনও হয়ে গেছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি ডিজাইন পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই টেন্ডার অনুমোদন হবে এবং এরপর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষের গণিত সমস্যার সমাধানে ইতিহাস গড়লেন দুই চীনা গবেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


শতবর্ষের গণিত সমস্যার সমাধানে ইতিহাস গড়লেন দুই চীনা গবেষক

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সেরা গণিতবিদদের ভাবিয়ে তোলা দুটি জটিল সমস্যার সমাধান করে ইতিহাস গড়েছেন দুই চীনা গবেষক। তারা এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন গণিতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ফিল্ডস মেডেল। এবারে চীনের দুই গণিতবিদ এই পুরস্কার অর্জন করেছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ফিল্ডস মেডেল যৌথভাবে পেয়েছেন চীনের হং ওয়াং ও ইউ ডেং, যুক্তরাষ্ট্রের জন পারডন এবং কানাডার জ্যাকব সিমারম্যান। বিজয়ীদের প্রত্যেকে পেয়েছেন ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার পাউন্ড)।

হং ওয়াং ও ইউ ডেং এমন দুটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেছেন, যেগুলোর উত্তর খুঁজতে বিশ্বের গণিতবিদরা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে আসছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং এই সম্মান পাওয়া ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় নারী।

গণিতের নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত ফিল্ডস মেডেল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়। এমন এক সময়ে এই পুরস্কার দেওয়া হলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের গণনাভিত্তিক কাজকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

এই অর্জনের খবর প্রকাশ করার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উইবো থেকে রেডনোট—বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘প্রথম চীনা গণিতবিদ হিসেবে ফিল্ডস মেডেল জয়’ হ্যাশট্যাগে কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয়েছে।

উইবোর এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি সব চীনা মানুষের গর্ব।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি।’

চীনের সংবাদমাধ্যমগুলোও দুই গণিতবিদকে নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তাদের শিক্ষাজীবন, গবেষণার পথচলা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং এই অর্জনের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ফিল্ডস মেডেলজয়ী প্রথম জাতিগত চীনা গণিতবিদ শিং-তুং ইয়াও বলেছেন, ‘চীনের গণিত সম্প্রদায়ের জন্য এটি এমন একটি স্বপ্ন, যা আমরা কয়েক দশক ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলাম।’

হং ওয়াং তার সহকর্মী জশ জাহলের সঙ্গে মিলে ১৯১৭ সালে জাপানি গণিতবিদ সোইচি কাকেয়া উত্থাপিত একটি বিখ্যাত সমস্যার সমাধান করেন। সমস্যা ছিল—একটি পেন্সিলকে সম্পূর্ণ একবার ঘোরাতে হলে সেটি সর্বনিম্ন কতটুকু ক্ষেত্রফল অতিক্রম করবে?

ওয়াং ও জাহল সমস্যাটি বিশ্লেষণ করেন এই ধারণার ভিত্তিতে যে পেন্সিলটি সমতল পৃষ্ঠে নয়, বরং ত্রিমাত্রিক মহাকাশে ভাসছে। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা গত বছর এ বিষয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

এএফপি সংবাদ সংস্থাকে হং ওয়াং বলেন, ‘এই অনুমানটি মানুষকে এত আকৃষ্ট করে, কারণ একই ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যাতেও স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়।’

অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী ইউ ডেংকে সম্মানিত করা হয়েছে আরও একটি শতবর্ষের পুরোনো গাণিতিক সমস্যার সমাধানের জন্য।

১৯০০ সালে জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট এমন একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, যা পরে ‘হিলবার্টের ষষ্ঠ সমস্যা’ নামে পরিচিত হয়। প্রশ্নটি ছিল—অসংখ্য পৃথক কণার গতিবিধি থেকে কীভাবে একটি সামগ্রিক ব্যবস্থার আচরণ নির্ণয় করা যায়।

ইউ ডেং গ্যাসের আচরণ বিশ্লেষণ করে এই জটিল সমস্যার সমাধান করেন। এই অর্জনের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব মহান গণিতবিদকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা করেছি, তাদের নামের পাশে নিজের নাম যুক্ত হওয়া সত্যিই বিশাল সম্মানের।’

হং ওয়াং মূলত হারমোনিক অ্যানালাইসিস নিয়ে গবেষণা করেন। গণিতের এই শাখায় তরঙ্গের গতি, আচরণ এবং বিভিন্ন ধরনের কম্পন বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রতি চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী অসাধারণ গণিতবিদদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফিল্ডস মেডেল। তাই এটিকে তরুণ গণিতবিদদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হং ওয়াং ১৯৯১ সালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন নগরী গুইলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় দুটি শ্রেণি একসঙ্গে অতিক্রম করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ২০০৭ সালে তিনি চীনের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

শুরুতে তিনি ভূবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও এক বছর পর গণিত বিভাগে চলে যান। স্নাতক সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেখানে প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয় ও একোল পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট অব হায়ার সায়েন্টিফিক স্টাডিজের (আইএইচইএস) স্থায়ী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ লেখেন, ‘তিনি আমাদের গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষের প্রতীক। বিজ্ঞানের জন্য ফ্রান্সকে বেছে নিন।’

অন্যদিকে, ইউ ডেং ছোটোবেলা থেকেই গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিতেন। তিনিও ২০০৭ সালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে ২০০৯ সালে এমআইটিতে চলে যান। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের বড় দুর্বলতা ফাঁস, নতুন সিদ্ধান্তের পথে নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


ইসরায়েলের বড় দুর্বলতা ফাঁস, নতুন সিদ্ধান্তের পথে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সরকার ইরানের সম্ভাব্য হামলার ভয়ের কারণে ড্রোন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে। এই তথ্যটি এন12-এর বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সংস্থার মতামত নেসেটের (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সমস্ত মন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে।

এন12 জানাচ্ছে, ইসরায়েলি প্রযুক্তি ড্রোনকে ঠেকাতে পারছে না এবং তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান কিংবা হিজবুল্লাহ, যারা ড্রোন হামলা বাড়াতে পারে, তাদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসনের।

এই কারণে, বেসরকারি প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও ইসরায়েলি সরকার বিবেচনা করছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানি ড্রোন ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বাহরাইনে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন দিয়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। একইদিনে, জর্ডানে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এদিকে, গত ১১ জুলাই ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা দাবি করেছেন, ড্রোন উৎপাদন তেহরানে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ইরানের ড্রোন কার্যক্রম দেশটিকে ‘শত্রুর দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করতে’ সহায়তা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%