ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শতবর্ষের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়া


শতবর্ষের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে rবিবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর ফলে অতীতের শতবর্ষের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইয়াংসান শহরে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে টানা পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায়, রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হারুনুর রশীদ আজাদ: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষে জানিয়েছে, কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেই জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। অথচ ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল বছরে মাত্র ৮ দিন। অর্থাৎ কয়েক দশকের ব্যবধানে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ক্রান্তীয় রাত বলা হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, দাবদাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক রেকর্ড তাপমাত্রাও সেই বৈশ্বিক পরিবর্তনেরই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।

আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন; শিশুর সুস্থ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ইউএনও ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


কাউখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন; শিশুর সুস্থ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ইউএনও ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

'জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি, বেগবান'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাবেক সভাপতি এনামুল হক এবং ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা এবাদত হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনোলজিস্ট এবিএম আনিসুল হক।

অনুষ্ঠানের সভাপতির ডাঃ সুব্রত কর্মকার বলেন, মায়ের দুধ একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ও সর্বোত্তম খাদ্য। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিশু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পায় এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটে। একই সঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও মাতৃদুগ্ধ পান করানো অত্যন্ত উপকারী।

তিনি আরও বলেন, "বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের লক্ষ্য হলো পরিবার ও সমাজের সব স্তরে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রত্যেক মা যেন পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান তা নিশ্চিত করা।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপিত হয় শিশুর জন্মের পর থেকেই। তাই মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মায়েদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো শিশু মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত না হয়।"

তিনি আরও বলেন, "সরকার মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করতে হবে।"

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের তাৎপর্য এবং শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কীর্তন শেষে ফেরার পথে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


কীর্তন শেষে ফেরার পথে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জে কীর্তন থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৌকা ডুবে নিখোঁজ বাকি দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরের রুয়ারকারা নামক এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। 

নিহতরা হলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেব নাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩৫) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)।

এর আগে, শনিবার (১ আগস্ট) একই এলাকার মৃত সুবল দেব নাথের ছেলে সত্যেন্দ্র নাথ (৬৫) ও মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অরুণ দেবনাথের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিবারের কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব ভবানীপুর এলাকার ৯জন নৌকাযোগে পার্শ্ববর্তী ভরাউট এলাকায় হিন্দুধর্মীয় এক কীর্তন অনুষ্ঠানে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর নামক স্থানে নৌকাটি ডুবে যায়। 

এ সময় নৌকায় থাকা ৯ জনের মধ্যে ৫ জন সাঁতার কেটে তীরে উঠলেও ৪ জন নিখোঁজ হন। 

এ ঘটনায় শনিবার দিনব্যাপী সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরিদল যৌথভাবে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর আজ বাকি দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোরারগঞ্জে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ দুই জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


জোরারগঞ্জে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ দুই জন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ পুলিশ একটি বিদেশী পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় অধিযোজনার মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে বোরহান উদ্দিন (৩৪) এবং করেরহাট এলাকার মৃত মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোঃ রহিম উল্লাহ রনি (৩৫)। পুলিশ জানায়, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এসআই মোঃ ফারুক উদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব হিঙ্গুলী সাকিনে আসামী বোরহান উদ্দিনের বসতবাড়িতে অভিযানে যায়।এ অভিযানের মধ্যে বোরহানের ঘরের ভেতর থেকে তাকে এবং তার সহযোগী রহিম উল্লাহ রনিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তল্লাশি চালিয়ে আসামী বোরহান উদ্দিনের কাছ থেকে একটি কালো রঙের সেমি অটোমেটিক ৭.৬২ বিদেশী পিস্তল, একটি সিলভার রঙের ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাজা বুলেট, দুটি ধারালো ছোরা, একটি ফোল্ডিং সুইচ গিয়ার এবং এক বোতল ভারতীয় তৈরি স্কপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এই ছাড়াও, তার সহযোগী রহিম উল্লাহ রনির কাছ থেকেও এক বোতল স্কপ সিরাপ জব্দ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ ও মীরসরাই থানায় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে, আসামী রহিম উল্লাহ রনির বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ, লোহাগাড়া, পটিয়া, ছাগলনাইয়া, রামু এবং সীতাকুণ্ড থানায় মাদক ও চুরির অপরাধে ৯টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে আদালতের ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও বেপরোয়া কালাম-শাওন সিন্ডিকেট: সরকারবিরোধী চক্রান্তের নতুন আখড়া কর্নকাঠি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


বরিশালে আদালতের ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও বেপরোয়া কালাম-শাওন সিন্ডিকেট: সরকারবিরোধী চক্রান্তের নতুন আখড়া কর্নকাঠি!

 

মিডিয়াপাড়ায় দৌড়ঝাঁপ করেও যখন অনুসন্ধানী টিম ‘তালাশ বিডি’কে থামানো গেল না, ঠিক তখনই নতুন ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বরিশাল নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও তার চক্র। গোপন সোর্স মারফতে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই বিতর্কিত সিন্ডিকেট এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি বানিয়ে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে দমানো ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টায় নেমেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতা শাওন। অপরদিকে তার চাচা কালাম খান (কালাম মেম্বার) সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের বলয় কাজে লাগিয়ে পুরো কর্নকাঠি এলাকা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে পুরো কর্নকাঠি অঞ্চলে জমি দখল, ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করার মূল অভিযোগ রয়েছে এই চাচা-ভাতিজা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

গুরুতর বিষয় হলো, কালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আমলী আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। তিনি আদালতের একজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাওনের বড় ভাই সাইফুল এবং অনিক সেরনিয়াবাতকে সাথে নিয়ে কর্নকাঠি ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। কোনো সাধারণ মানুষ সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেই চড়াদামে বালু ভরাট করতে বাধ্য করা হতো। তাদের দাবিকৃত চাঁদা বা বালু ভরাটের শর্ত না মানলে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চূড়ান্ত হয়রানি করা হতো। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কর্নকাঠি এলাকায় এরা ‘অঘোষিত গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া কালাম মেম্বার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত অন্যায়, অবিচার ও চরম পক্ষপাতিত্ব করত বলে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলেও কর্নকাঠি এলাকায় কালাম মেম্বার ও শাওন সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। এলাকাটিকে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বরিশাল নগরীতে গভীর রাতে হঠাৎ যেসব ঝটিকা মিছিল বের করা হয়, তার সব পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও সরকারবিরোধী নানা চক্রান্ত কর্নকাঠিতে বসেই সম্পন্ন হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশ কালাম মেম্বার ও শাওনকে আইনের আওতায় আনতে রহস্যজনকভাবে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

অবাধে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও অপরাধ কর্মকাণ্ড চললেও থানা পুলিশ কেন তাদের ধরছে না—এ বিষয়ে জানতে বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চাচা-ভাতিজার সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো অপরাধের বিষয়ে তিনি নাকি কিছুই জানেন না! শুধু তা-ই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আপনারা কীভাবে জানলেন?"

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও বিশ্বস্ত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হচ্ছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির বিষয়ে এমন রহস্যজনক আচরণ এবং অপরাধীদের না জানার ভান করার মানসিকতা দেখে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে থানা পুলিশ কি তবে তাদের প্রধান 'রক্ষাকবচ' বা ঢাল হিসেবে কাজ করছে?

বিষয়টির সত্যতা ও অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শাওনের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত খুদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অপরদিকে, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি কালাম মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আদালতের ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও অশুভ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান কী কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%