১২:২৬ পি.এম
নাগরিকের অধিকার রক্ষায় রিট একটি কার্যকর সাংবিধানিক হাতিয়ার। অনেক সময় দেখা যায়, হাইকোর্টে কোনো ব্যক্তির দায়ের করা রিটের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো–
১. রিট অফ হেবিয়াস করপাস (Habeas Corpus): কোনো ব্যক্তি আইনগত কারণে আটকে রাখা হলে, হেবিয়াস করপাস রিট দায়ের করা যায়। এই ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
২. রিট অফ ম্যান্ডামাস (Mandamus): কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য পালন না করলে, হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেয়।
৩. রিট অফ সার্টিওরারি (Certiorari): বিচারিক আদালত আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে, হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে সক্ষম।
৪. রিট অফ প্রহিবিশন (Prohibition): বিচারিক আদালত আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করলে, হাইকোর্ট সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়।
৫. রিট অফ কো-ওয়ারেন্টো (Quo Warranto): কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া সরকারি পদে থাকলে, এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য আহত
জনস্বার্থ রিটের ঐতিহাসিক ভিত্তি হলো মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলা, যেখানে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে মামলা করতে পারেন। এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে জনস্বার্থে করা রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।
ব্যক্তির ন্যায়বিচার প্রাপ্তি কিংবা জনস্বার্থ রক্ষায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা রিটের সংখ্যা যথেষ্ট রয়েছে। কিছু রিটের ফলে আমাদের সমাজ ও জীবনে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। উদাহরণস্বরূপ, শিশুর ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন, নদীর আইনি অধিকার প্রাপ্তি, মায়ের পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ, ক্ষতিপূরণের বিভিন্ন বিষয়গুলো।
হাইকোর্টের একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন বলেন, রিট মামলা সাংবিধানিক একটি অধিকার। জনস্বার্থের (রিট) মামলার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, তবে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে অনেকেই শর্টকাট পন্থায় রিট করেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে যেন কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য জনস্বার্থহীন বিষয়কে পুঁজি করতে না পারে। সর্বপরি আমাদের সমাজের জন্যই জনস্বার্থ (রিট) মামলা খোলা থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন