০৪:০৮ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা এলাকায় শহরের সড়কের পাশে রয়েছে ময়লার স্তূপ। সম্প্রতি তোলা হয়েছে ছবি।
হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে হঠাৎ নাক চেপে ধরলেন রিকশাচালক হারুণ মিয়া। কথার মাঝে হঠাৎ তিনি চুপ হয়ে গেলেন।
প্রায় একশ গজ যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত
খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’
হারুণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের অবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এই কথাবার্তা হচ্ছিল।
মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস তার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনো কখনো আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’
সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দুর্দান্তভাবে চোখে পড়বে।
আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড
এ ধরনের ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায় ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে। রেলপথের স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে ডানদিকে একাধিক ময়লার স্তূপ দেখতে পাওয়া যায়। আবার নৌপথে গোকর্ণঘাটে নামলে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এতে কোনো ফল মেলেনি।
বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে থাকা ময়লা-আবর্জনা মানুষকে আরো বেশি অস্বস্তিতে ফেলছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা জানিয়ে দিচ্ছে।
শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই একটি ডাস্টবিন রয়েছে। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দি সহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
জানতে পারা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার প্রক্রিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে দিয়ে রাখা ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন। আবার কিছু জায়গায় কেউ ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এর ফলে শহরের শতাধিক স্থান ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলা যায় না। শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ রয়েছে। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনো বলেন লেবার সংকট, কখনো বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে শহরের মানুষের জন্য দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।’
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেন শামীম আহমেদ।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘কিছু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন