১১:৫১ এম
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মসজিদ কমিটির দন্দ্ব এবং বংশগত বিরোধের কারণে শত বছরের পুরনো একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠছে। এটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
রাস্তাটির উপর একটি দেয়াল নির্মাণের কারণে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিপত্তি ঘটছে।
ফাজিলপুর গ্রামের 'পূর্ব ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'-এ যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি, যা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধের ফলস্বরূপ প্রতিপক্ষের লোকজন ওই রাস্তাটিতে দেয়াল তুলে তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
ভুক্তভোগী লোকজনের অভিযোগ, রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। এর সাথে সাথে স্কুলটি একটি ভোটকেন্দ্র হওয়ায় ভবিষ্যতে ভোটারদের যাতায়াতও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল তরফদার মন্তব্য করেন, 'আমার জন্মের আগেই এই রাস্তাটি রয়েছে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটির কারণে বংশের মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। একপক্ষ মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করা জায়গায় দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। ঈদের আগে মালয়েশিয়ায় আমার এক ভাতিজা মারা যায়, কিন্তু দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় তার মরদেহ বাড়িতে আনতে পারিনি।'
তিনি আরো বলেন, 'তারা আমার বড় ভাইকে মেরে দাঁত ভেঙে দিয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব এতটা বেড়ে গেছে যে, তারা এলাকাটিকে যেন হরমুজ প্রণালি বানিয়ে ফেলেছে! আমরা ঠিকমতো ঈদও পালন করতে পারিনি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই রাস্তাটি খুলে দেয়া হোক।'
তবে রাস্তা বন্ধের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, 'রাস্তার কোনো কাগজপত্র বা রেকর্ড নেই। মসজিদের সিঁড়ি দিয়ে বয়স্করা উঠতে পারেন না, তাই এখানে নতুন করে সিঁড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এটি এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে কোন রাস্তা বন্ধ করা হয়নি, এটি তাদের মানসিক সমস্যা।'
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
এদিকে রাস্তা বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পূর্ব ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, 'রাস্তা বন্ধের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কিত, তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন