০১:৪৭ এম
ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ পাঁচজন, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুজন করে এবং মাদারীপুরে একজন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান এবং বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরো দুই সদস্য আহত হন। গতকাল রাতে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রাতে পৌর এলাকায় টহল এবং ওয়ারেন্ট তামিল করার সময় পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যান পুলিশ সদস্যদের এবং রফিকুলকে ধাক্কা দেয়। এতে এসআই মিজান গাড়িটির সঙ্গে আটকে যায়। এ অবস্থায় গাড়িটির চালক তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: স্মরণসভায় মির্জা আব্বাস / রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানও মারা যান।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও সবজিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—টেকনাফের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৭) ও চকরিয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৬)।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই সেলিম মিয়া জানান, কক্সবাজারমুখী শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী পিকআপের সংঘর্ষ হলে পিকআপের কেবিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুই যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করেছে।
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ইকবাল সোবহান, মুক্তি পেলেন রাজীব
ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ নিহত ৫
ফরিদপুর সদর ও মধুখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সদরের কানাইপুরে মা-ছেলে এবং মধুখালীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে ঢাকাগামী কিংফিশার পরিবহনের বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে বাসের যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে। নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: হরমুজ দিয়ে চলাচলে ঢাকাকে তেহরানের সমন্বয়ের পরামর্শ
এদিকে বিকেলে কানাইপুরের তেঁতুলতলায় বালুবোঝাই ট্রাক প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার উপর উল্টে পড়লে মা ও ছেলে নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মাগুরার মহম্মদপুরের আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২) ও তার ছেলে শাওন (৭)। দুর্ঘটনায় সুমির স্বামী পলাশ গুরুতর আহত হন। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকের চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। প্রাইভেট কারটির একাংশ ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
চট্টগ্রামে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত
আরও পড়ুন: হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে কমিশন গঠন
চট্টগ্রামে বাসচাপায় প্রাণ গেছে অটোরিকশার দুই যাত্রীর। গতকাল রাত আটটার দিকে সাতকানিয়ার নয়াখাল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধরা সড়ক আটকে বাসটিতে আগুন দেয়। এতে ওই সড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
দোহাজারী হাইওয়ের থানার ওসি নুরুল আবসার বলেন, পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে সাড়ে ৯টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়রা জানান, সাতকানিয়ার কেরাণীহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরগামী মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়াখাল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা হতাহত হন।
মাদারীপুরে হোটেল ব্যবসায়ী নিহত
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, সরকারের বলপ্রয়োগে পরিস্থিতির অবনতি: নাহিদ
মাদারীপুরের তাঁতীবাড়ি এলাকায় পুলিশের রেকারের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সেলিম হাওলাদার নামে এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিম সদর উপজেলার বাগেরপাড় এলাকার মৃত নাজিম উদ্দীন হাওলাদারের ছেলে এবং হোটেল মেট্রোর মালিক।
পুলিশ জানায়, সেলিম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে ভূরঘাটা থেকে মাদারীপুর শহরে ফিরছিলেন। পথে তাঁতীবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি উদ্ধারে থাকা পুলিশের রেকারকে ধাক্কা দেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন