প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর গাজা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে রয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর (ওসিএইচএ) ২০২৫ সালে সেখানে ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ওসিএইচএ জানায়, ২০২৫ সালে ত্রাণকর্মী নিহতের দিক থেকে সুদান দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। দেশটিতে ওই বছর ৭১ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন।
মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান আউটকামসের এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত, আহত কিংবা অপহৃত হয়েছেন। এটি ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতার জন্য নতুন রেকর্ড।
ওসিএইচএ জানায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। যদিও এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম, তবুও মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর সহিংসতার সামগ্রিক মাত্রা হ্রাস পায়নি। এ ছাড়া ৩২২ জন আহত হয়েছেন এবং ২৩৫ জন অপহৃত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, ‘মাত্র তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তুলে ধরলেই পরবর্তী ত্রাণকর্মীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণ করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।
ড্রোনে বাড়ছে ঝুঁকি। কম খরচে তৈরি করা যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে বলে সচেতন করা হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ৮০ শতাংশ ঘটে সশস্ত্র ড্রোন হামলায়। এসব হামলায় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়।
ইউক্রেনে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই ড্রোন হামলায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়াতেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় অস্ত্রবাহী ড্রোনের হামলা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চার গুণ বেড়ে গেছে।
ত্রাণকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন। মার্চে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। মে মাসে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনে চারটি মানবিক সহায়তাবাহী বহরে হামলা করা হয়েছে।
টম ফ্লেচার বলেছেন, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ড্রোন পুরোনো এক বিপদের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে—বেসামরিক জীবনকে ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা। প্রযুক্তি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের আইন পরিবর্তন হয় না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন