০৪:১৫ পি.এম
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো গ্রহণ করেছে। এটি বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
আজ এখানে পাওয়া এক বার্তায় জানানো হয়, জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যবিশিষ্ট এক্সকম ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৫৯ সালে ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ কখনও ব্যুরোতে দায়িত্ব পালন করেনি। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশকে মনোনীত করা হয়। পরে ভিন্ন দুটি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্বকারী আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নে সমর্থন দেয়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ
পরে নির্বাহী কমিটির ১১০ সদস্য রাষ্ট্র দূত সোবহানের মনোনয়ন সহজে অনুমোদন করেন।
বার্তায় এটি আরও বলা হয়, এ নির্বাচন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।
পেশাদার কূটনীতিক নাহিদা সোবহান এর আগে রোম, কলকাতা ও জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জর্ডানে রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় হাই কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
বার্তায় এও বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার বাংলাদেশ জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা এবং তহবিল সংকটের মধ্যে বৈশ্বিক শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থার এক সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করল।
এছাড়া, মানবিক সহায়তা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ইস্যুতে একে বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রতি অঙ্গীকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব: রাশেদ খান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন