০৫:৪৩ পি.এম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয়, যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে সেও জরুরি। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ সম্পর্কে আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষ আশাবাদী যে, অতীতে যা ঘটেছে, তা পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের উন্নতির পথচলা শুরু হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের দিকে যাবে, বিচারবিভাগ সত্যিই স্বাধীনভাবে কাজ করবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে সক্ষম হবে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব স্বতন্ত্রভাবে পালন করবে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র একেবারেই শুধু রাজনীতি বিজ্ঞান কিংবা ইতিহাসের বিষয় নয়। এটি কোনো যুক্তির বিষয়ও নয়। এটি মূলত মনস্তত্ত্বের বিষয়। যদি আপনার মনস্তত্ত্ব সুস্থ না থাকে, তবে আপনি কিছুই করতে পারবেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিরোধী দল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র, তীক্ষ্ণ ও কঠোর সমালোচনা করবে, যা গণতন্ত্রের প্রাসঙ্গিক চর্চা। তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে, পারস্পরিক উপকারেও সহায়ক হতে হবে এবং ভবিষ্যৎমুখী হতে হবে। তাহলেই গণতন্ত্রের পথচলা মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের একটি উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রত্যেককে তাদের নিজেদের দিকেও তাকাতে হবে। এক হাতে কখনো তালি বাজে না। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষের ভুমিকার সৃষ্টি থাকা জরুরি। একতরফাভাবে শুধু একটি পক্ষের কথা বললে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। ভাষা, শব্দের প্রয়োগ ও বাক্য বিন্যাসের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি সচেতন থাকে, তাহলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব সৃষ্টি হবেনা।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যত আইন-কানুনই গঠন করা হোক, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া সেগুলি কার্যকরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রত্যেকের মধ্যে আইন মানার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিচারকরা তাদের মত এবং রায় প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিবেচনা অনুযায়ী ভূমিকা পালন করবেন, এটি প্রত্যাশিত। অতীতে বিচারবিভাগের যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের আচরণ এবং কার্যক্রমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন