১০:১১ এম
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রবিবার স্থানীয় সময় ভোরে যে ভূমিকম্পটি আঘাত হানা, তার মাত্রা ৫ দশমিক ৯। কম্পনের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী টোকিওসহ দেশের দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ইবারাকি জেলার ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল। ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে গবেষণা অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
প্রিফেকচারাল কর্মকর্তা এবং অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুসারে, এই অঞ্চলের অন্তত পাঁচটি প্রিফেকচারে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন এবং ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই ঘুমের মধ্যে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে অথবা দরজা ও আসবাবপত্রের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
কানাগাওয়া জেলার ইয়োকোহামা শহরে ৮০ বছর বয়সী একজন নারী বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানান, ভোরের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে তাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অনেকেই।
ভূমিকম্পের প্রভাবে টোকিও থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী রেল নেটওয়ার্কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অফিস থেকে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই দলটি বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ করছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত মাসে জাপানের দক্ষিণতম দ্বীপ কিউশুর কুমামতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানা, যাতে ৩৮ জন নিহত এবং ৩৬৪ জন আহত হন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন