১১:২০ এম
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পথচলার ৭৩ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একটি ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল, এবং আজ এটি এক বিশাল আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।
গৌরবময় এই দীর্ঘ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি, ও জ্ঞানচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে জমা হয়েছে নতুন কিছু প্রত্যাশা। বিশেষ করে, আবাসন সংকট দূরীকরণ, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এখন প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৮৭৩ সালে রাজশাহী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও, পরবর্তীতে সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। তারপর রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৫ জন ছাত্রনেতা কারাবরণও করেন।
অবশেষে, প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ এবং প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীর প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয় এবং ৬ জুলাই রাজশাহী কলেজে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান— দেশের প্রতিটি বাঁক পরিবর্তনে রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহারের আত্মত্যাগ এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের এই সবুজ ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী। জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত আছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন শিক্ষক। ১২টি অনুষলের অধীনে রয়েছে ৫৯টি বিভাগ ও একাধিক ইনস্টিটিউট। শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ১৭টি আবাসিক হল এবং গবেষকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।
সুদীর্ঘ এই সময়ে রাবি তৈরি করেছে বহু কালজয়ী মানুষ। ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, কিংবা ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেনের মতো অসংখ্য গুণীজন এই ক্যাম্পাসেরই সৃষ্টি।
৭৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আকাশচুম্বী সাফল্য থাকলেও আবাসন সংকট ও গবেষণায় সীমিত বরাদ্দের মতো কিছু চিরচেনা সমস্যা এখনো কাটেনি। বর্তমানে মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলের সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে আবাসন সংকট ও হলের সিট বাণিজ্য বন্ধ করা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলকে সোমবার (৬ জুলাই) ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে ১০টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। পরে বেলুন-পায়রা ওড়ানো, আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয় উপস্থিত থাকবেন। বিকেলে স্টেডিয়ামে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন