প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দিতে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা এবং ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে, তারা এই এককালীন বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ক একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য থেকে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ প্রদানের সক্ষমতা কঠোরভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুন ভিত্তি তারিখে 'মন্দ ও ক্ষতিজনক' শ্রেণীকৃত ঋণগুলোকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রদান করা হবে।
তবে, এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা লাভের জন্য বেশকিছু শর্ত রয়েছে।
এককালীন পরিশোধের শর্ত অনুযায়ী, এই সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাকে সমুদয় দায়িত্ব এককালীন পরিশোধ করতে হবে।
সুদ মওকুফের শিথিলতা বিষয়ক শর্তগুলোতে বলা হয়েছে, এই সুবিধার আওতায় সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের দুটি সার্কুলারের (২০২২ সালের ২১ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিতকরণ সম্পর্কিত শর্ত এবং ওই বছরের ২৪ মে জারি করা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাতের বিকলন না করার শর্ত) শিথিলতা থাকবে।
পুনঃতফসিলকৃত ঋণগুলোর জন্য, ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে যেসব 'মন্দ বা ক্ষতিজনক' মানের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোকেও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা লভ্য হবে।
এক্ষেত্রে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ এক্সিট প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এই নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন