০৩:৪৬ পি.এম
ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন দাবদাহে প্রাণহানি বাড়ছে। একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দেশটিতে মাত্র তিন দিনে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চরম গরমের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন তাপপ্রবাহের ঘটনায় ঘটানো সম্ভব নয়।
২০ জুন থেকে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ এখন জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদেয় তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনে, যেখানে এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার।
বিশেষত প্যারিস অঞ্চলের ইল-দ্য-ফ্রান্স, ব্রিটানি ও নরম্যান্ডিতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং বাসা-বাড়িতেও উল্লেখযোগ্যভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আওয়ামী লীগ নেতা হিমাংশু দাস আটক
এখন জার্মানিতেও টানা তৃতীয় দিনের মতো জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। ব্রান্ডেনবুর্গে তাপমাত্রার পারদ উঠে গেছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্যাক্সনিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে রেললাইনের জোড়া প্রসারিত হয়ে যাওয়ার কারণে লাইপজিগে ট্রাম চলাচল সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি, হ্রদ ও নদীতে গোসল করার ফলে কয়েকদিনে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। কিছুটা স্বস্তির সন্ধানে মানুষ ছুটছে ফোয়ারা, ক্যাফে অথবা লেকের ধারে। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টেও ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে বাসিন্দারা অস্থায়ী কুলিং স্টেশন ও পানির স্প্রে ব্যবহার করছেন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইতালির রাজধানী রোমসহ ২২টি শহরে সর্বোচ্চ 'রেড হিট অ্যালার্ট' জারি রয়েছে, তবুও ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে পোপের প্রার্থনায় হাজার হাজার ক্যাথলিক অংশগ্রহণ করছেন। তারা গরমের বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য ছাতা, টুপি এবং হাতপাখার সাহায্য নিচ্ছেন।
বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, চলতি তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন, অবকাঠামোর ক্ষতি, দাবানলের ঝুঁকির বৃদ্ধি এবং হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগী নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: উত্তরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে হেনস্তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন