০৭:০৮ এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতা চেয়েছেন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে।
রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএমের অপারেশনস বিভাগের উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েলস।
এ সময় আইওএমের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাতো এবং ডিডিজির বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারে আইওএমের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (GCM)-এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (GCM NAP) অনুযায়ী চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত এবং কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার জন্য ইচ্ছুক।
তিনি নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ তৈরি করতে এবং ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তুলতেও সহায়তা চান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী অভিবাসী কর্মীসহ সব অভিবাসীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। সংকটাপন্ন দেশ থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে আইওএমের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি নিরাপদ প্রত্যাবাসন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান। বৈঠকে উগোচি ড্যানিয়েলস নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূর্ষী প্রশংসা করেন।
আরও পড়ুন: নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য পিকেএসএফ-এর ২,৫০০ কোটি টাকা বিতরণ
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-আইওএম অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন