প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি সামুদ্রিক শোল মাছ। মাছটি দেখতে টর্পেডো আকৃতির, এবং স্থানীয়ভাবে এটিকে ‘মথু’ বা ‘দাঁতিনা সুরমা’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাছটি কলাপাড়ার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মেসার্স ফাইভ স্টার ফিস মাছের আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হলে এটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। পরে, মাছটির ক্রেতা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুর রহমান খান ও সোহাগ আহমেদ যৌথভাবে ৭০০ টাকা কেজি দরে মোট ১৪ হাজার টাকায় কিনে নেন।
জেলে রুহুল আমিন জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাঁরা গত ৯ দিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। শনিবার তার জালে সামুদ্রিক শোল মাছটি ধরা পড়ে। পরে রোববার বিকেলে তিনি ও অন্যান্য জেলেরা সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছেন।
মাছটির ক্রেতা আবদুর রহমান খান ও সোহাগ আহমেদ জানিয়েছেন, সচরাচর বাজারে এত বড় সামুদ্রিক শোল পাওয়া যায় না। এ কারণে মাছটি বাজারে দেখেই তাঁরা পরিবারের জন্য কিনে ফেলেছেন।
মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Rachycentron canadum। তবে জেলেদের কাছে এটি ‘সামুদ্রিক শোল’ হিসেবে পরিচিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাংসাশী মাছ। এটি উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্র অঞ্চলে পাওয়া যায়, যার মধ্যে বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমাও অন্তর্ভুক্ত। এর দেহ লম্বা, শক্তিশালী ও টর্পেডো আকৃতির, এবং দেহ গাढ़ বাদামী থেকে কালচে বর্ণের। শরীরের দুই পাশে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত একটি সুস্পষ্ট সাদা অনুভূমিক ডোরা থাকে, যা এ প্রজাতিকে সহজে শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক শোল মূলত গভীর সমুদ্রের একটি বিরল প্রজাতির মাছ। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাগরের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে ও পর্যাপ্ত খাবার পেলে এ মাছ আকারে বেশ বড় হতে পারে। সাগরে নিয়মিত এমন বড় মাছ ধরা পড়লে উপকূলীয় জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, এবং এটি মৎস্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন