০৩:১৪ পি.এম
বর্তমান সময়ে, যখন সমাজে সাধারণত একক পরিবারের প্রসার দেখা যাচ্ছে, তখন ভারতবর্ষের অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কুরলাপল্লি গ্রামের নাগাপ্পা পরিবার এখনও যৌথ পরিবারের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখে। ছয় প্রজন্মের ৮৩ সদস্যের এই পরিবার যদিও চারটি পৃথক বাড়িতে বসবাস করে, তবুও তাদের রান্নাঘর একটাই রয়েছে। পরিবারের সমস্ত সদস্য একসাথে রান্না করা খাবার খেয়ে থাকেন। সম্প্রতি, এই পরিবারটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাগাপ্পা পরিবারটির নেতৃত্বে আছেন হনুমন্তরায়ুদু ও মুথিয়ালাপ্পা। তাদের তত্ত্বাবধানে মোট ৮৩ সদস্যের পরিবারে ছয়জন শাশুড়ি, ১৪ জন পুত্রবধূ, ২০ জন শিশু এবং অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা একসাথে একটি বাড়িতে বসবাস করতে পারেন না। তারা পাশাপাশি চারটি বাড়িতে বসবাস করেন। তবুও রান্না, খাবার, আয়-ব্যয় এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত— সবকিছুই সকলের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে থাকে। কৃষিকাজ, গৃহস্থালির দায়িত্ব এবং অন্যান্য কাজগুলো সদস্যদের মধ্যেই ভাগ করে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
হনুমন্তরায়ুদু পিটিআইকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা একত্রিত হয়ে কফি পান করে দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। এই বৈঠকের মধ্যেই রান্নার মেনু, গৃহস্থালির কাজের বণ্টন, কৃষিকাজের দায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। তারপর, পরিবারের একটি অংশ মাঠে কৃষিকাজে চলে যায় এবং অন্য অংশটি বাড়িতে থেকে রান্নাবান্না ও সংসারের অন্যান্য কাজ পরিচালনা করে।
নাগাপ্পা পরিবারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের যৌথ রান্নাঘর। পৃথক চারটি বাড়িতে বসবাস করলেও, পরিবারের সবাই এক জায়গাতেই রান্না করা খাবার খায়। প্রয়োজনীয় বাজার ও মুদি সামগ্রীসমূহের তদারকি করেন প্রবীণ সদস্যরা, এবং পুত্রবধুরা সম্মিলিতভাবে পুরো পরিবারের জন্য রান্না প্রস্তুত করেন।
কৃষিকাজের পাশাপাশি, পরিবারটির যৌথ মালিকানায় চারটি যাত্রীবাহী বাসও রয়েছে। এই বাসগুলো অন্ধ্রপ্রদেশের কল্যাণদুর্গম এবং প্রতিবেশী কর্নাটকের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। কৃষি ও পরিবহন খাত থেকে সংগৃহীত সব আয় একত্রিত করে যৌথভাবে পরিবারের খরচ নির্বাহ করা হয়।
যৌথ পরিবারব্যবস্থা ক্রমেই বিরল হয়ে ওঠার এই সময়ে নাগাপ্পা পরিবারের জীবনধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটি পারিবারিক ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত জীবনযাপনের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। সূত্র: আনন্দ বাজার
আরও পড়ুন: মদিনায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন