০৬:০৫ পি.এম
তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এর ফলে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে এবং প্রায় ৫০০টি পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে, সাথেই আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।
দিন কাটছে আতঙ্কে নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর ভয় নিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের।
আরও পড়ুন: সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনের কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছে। চলতি বছর ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু নতুন বাঁধ নির্মাণের পর নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে যে স্বস্তি এসেছিল, তা স্থায়ী হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একইসাথে নদীর পানিতে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে যায় এবং প্রায় ৫০০টি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইয়াবাসহ আটক যুবদল নেতা মাসুদ বহিষ্কার
গত কয়েক দিন ধরে তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতের পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কিছুদিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে।
আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার ঘরবাড়ি সরানোর চিন্তায় আছি।’
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, চিকিৎসক নিহত
নরশিং এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার অনেক টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু এত দ্রুত যদি ভেঙে যায়, তাহলে এই বাঁধ দিয়ে আমাদের কী লাভ হলো? এখন আবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারানোর ভয় রয়েছে।’
হরিণচড়া গ্রামের সাইদুল বলেন, ‘বাঁধ হওয়ার পর মনে হয়েছিল ভয় কেটে গেছে। এখন দেখি বাঁধও নদীতে চলে যাচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন ঘরটাও নদীতে ভেঙে পড়ে। ভাঙন শুরুর পর দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো এতটা ক্ষতি হতো না। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও ব্লক না ফেললে পুরো বাঁধই নদীগর্ভে চলে যাবে।’
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: সাভারে এক রাতে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ালো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন