০২:১০ এম
ইতালির তুসকানির প্রাচীন কূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো আঙুরের বীজের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আধুনিক ওয়াইন তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। তাঁদের মতে, রোমান সাম্রাজ্যের সুসংগঠিত কৃষি ব্যবস্থা আজকের ওয়াইন উৎপাদন পদ্ধতির বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে লাল সানজিওভেসে ওয়াইনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত তুসকানির কিয়ান্তি অঞ্চলে একসময় প্রধানত সাদা আঙুরের চাষ হতো।
আবিষ্কারটি হয়েছে কেতামুরা দেল কিয়ান্তি নামে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে। রোমানদের আগমনের আগে এখানে ইট্রুস্কানদের বসতি ছিল। পরে রোমান ও মধ্যযুগীয় ইতালীয়দেরও আবাস গড়ে উঠেছিল সেখানে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সাল থেকে খ্রিষ্টাব্দ ৩০০ সালের মধ্যে বসবাসকারীরা আঙুরের বীজ গভীর কূপে ফেলতেন। অক্সিজেনবিহীন কাদায় চাপা পড়ে থাকায় সেগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
আরও পড়ুন: ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন
গবেষণার সহলেখক ড. ওয়া ইনানলি জানান, ৮০টি বীজের ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগই একই জাতের আঙুরের। ইট্রুস্কানদের সময় থেকে শুরু করে রোমান যুগ পর্যন্ত শত শত বছর ধরে একই জাতের আঙুর চাষ করা হয়েছিল।
জিনগত পরীক্ষায় আরও জানা গেছে, সেই প্রধান আঙুরজাতটি সাদা ফল উৎপাদন করত। গবেষকদের জন্য এটি ছিল বড় ধরনের বিস্ময়।
১৯৭৩ সাল থেকে কেতামুরা দেল কিয়ান্তিতে খননকাজ পরিচালনাকারী ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ন্যান্সি ডি গ্রামন্ড বলেন, বর্তমানে যে অঞ্চল লাল ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত, সেখানে একসময় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাদা আঙুরের চাষ ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল— এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রোমানদের দখলের পর ওই এলাকায় নতুন নতুন আঙুরের জাতের আগমন ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল। একই সঙ্গে কেতামুরার প্রধান আঙুরজাতটির সঙ্গে দক্ষিণ ফ্রান্সে পাওয়া দুটি প্রাচীন আঙুরের বীজের ঘনিষ্ঠ জিনগত সম্পর্কও মিলেছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার
বিজ্ঞানীদের মতে, এই তথ্য রোমান সাম্রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত কৃষি নেটওয়ার্কের প্রমাণ বহন করে এবং আধুনিক যুগে মানসম্মত ওয়াইন উৎপাদনের ভিত্তি গড়ে তুলতে সেই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন