০৫:০৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে কোনো বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি ছিল প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার এবং মেরামতের উদ্দেশ্যে সংঘটিত একটি গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেইভাবে কোন বাস্তবতা ছিল না।
সোমবার রাজধানী ঢাকা শহরের সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ নামে একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়গুলি বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভাটি আয়োজন করা হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যদি কোনো পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব ঘটে, তাহলে তার পেছনে একটি নির্দিষ্ট দর্শন, বিপ্লবী আদর্শ এবং সেই আদর্শ ধারণকারী একটি রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্ব থাকতে হয়। সেই প্রেক্ষিতে বিপ্লবী পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
তিনি উল্লেখ করেন যে, আমাদের দল এবং সরকার স্পষ্টভাবে মনে করে, গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে প্রচলিত ব্যবস্থাকে সংস্কার এবং মেরামত করার জন্য। সিদ্ধি অনুযায়ী এখানে কোনো বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, বিপ্লব এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনও এক ধরনের চিন্তাগত অস্পষ্টতা বিরাজমান রয়েছে। জুলাই মাসের ঘটনাপ্রবাহের দিকে কে কিভাবে দেখছেন, সেটি সম্পর্কে স্পষ্টতার অভাব থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য গড়ে তোলা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মতো জটিল কর্মসূচিকে সুপ-লব্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমান্তরাল দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যূনতম ঐকমত্যের প্রয়োজন। সকলকে মিলে নির্ধারণ করতে হবে কোনটি সঠিক, কোনটি বেঠিক এবং বাহির করতে হবে কোনগুলোকে গ্রহণ এবং স্থগিত রাখব, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে একটি সুস্থ এবং টেকসই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জুলাই সনদসহ চলমান রাজনৈতিক ও সংস্কার প্রক্রিয়া বিষয়ে মতভেদ থাকলেও, আলোচনা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন