০২:৪৪ পি.এম
দিনাজপুরে একটি নারীর উপর পেট্রোল ঢেলে আগুনে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে পুলিশ সাবেক স্বামীকে আটক করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের সুতারপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া আক্তার শ্যামলী (২৫) ছিলেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের কন্যা এবং দুই সন্তানের জননী। অপরদিকে, আটক মাহবুবুর রহমান (৫০) রংপুর কোতোয়ালি থানার লালবাগ এলাকার মৃত সফি উদ্দীনের পুত্র।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কলেজ শিক্ষার্থী সারজিল সিকদার নিহত
স্থানীয় পুলিশ এবং সূত্র থেকে জানা গেছে, শ্যামলীর প্রায় দুই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সন্তানদের দেখার উদ্দেশ্যে সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে যান মাহবুবুর রহমান। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্যামলীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।
শ্যামলীর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে মাহবুবুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শ্যামলীকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্ত হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুনরায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোলের আলামত এবং একটি ধারালো চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ৩ হাজার কেজি অবৈধ ভারতীয় জিরাসহ ৩ জন গ্রেফতার
নিহত শ্যামলীর নানি মোমিনা বলেন, "প্রথমে ছুরি দিয়ে আমার নাতনিকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে ব্যর্থ হয়ে পরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, "হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই থানায় এলে মামলাটি নেওয়া হবে। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন