প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে আর দেখা যাবে না তাকে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে পর্তুগালের হয়ে অসংখ্য অবিশ্বাস্য কীর্তি ও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে এমন ৯টি অনন্য রেকর্ড রয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসে অক্ষত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
১. আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল
রোনালদো ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তার মোট গোলসংখ্যা ১৪৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি, যিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন, তার চেয়ে ২০ গোল পেছনে রয়েছেন। ইরানের কিংবদন্তি আলী দাইয়ীও রোনালদোর চেয়ে ৩৮ গোল পেছনে। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে রোমেলু লুকাকু (৯৪ গোল) বা রবার্ট লেভানডোভস্কি (৯২ গোল) কিংবা হ্যারি কেইনের পক্ষে এই বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে রোনালদোকে টপকানো প্রায় অসম্ভব।
পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরের বিশাল ক্যারিয়ারে রোনালদো সর্বোচ্চ ২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই সংখ্যায় তিনি অন্য সবার চেয়ে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ২০৮ ম্যাচ। বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে কাতার জাতীয় দলের অধিনায়ক হাসান আল হায়দোস ১৯৩ ম্যাচ খেলে তার কাছাকাছি থাকলেও, শীর্ষস্থান দখল করতে তাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
৩. ত্রিশের পরে গোলমেশিন
বয়স বাড়লেও রোনালদোর মাঠের পারফরম্যান্সে কমেনি ধার। বরং ক্যারিয়ারের ‘দ্বিতীয়ার্ধে’ তিনি আরো বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। ত্রিশ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ৯৪টি গোল করেছেন তিনি, যেখানে ত্রিশের আগে তার গোলসংখ্যা ছিল মাত্র ৫২টি। ত্রিশের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ গোল রয়েছে মেসির। সামগ্রিক ফুটবল ইতিহাসে ৯৪ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র চারজন, ফলে এই রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব।
রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে মোট ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করেছেন। বছরের পর বছর ধরে তার গোলের ধারাবাহিকতা অতুলনীয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে কেবল রোনালদো, মেসি এবং আলী দাইয়ীই এই বিরল ক্লাবের সদস্য।
রোনালদো নিজের দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের প্রতিটি একক বছরে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলমুখের সামনে কখনোই তার ধার বা ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েনি। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কাউকে অতি অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত হতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই নিয়মিত গোল করে যেতে হবে।
৬. টানা ২৩ বছর গোলের দেখা
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চূড়ায় না থাকলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ‘ইউরো’তে সর্বাধিক ১৪টি গোল করার রেকর্ড একচ্ছত্রভাবে রোনালদোর দখলে। এই তালিকায় তার ঠিক পরেই রয়েছেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি (৯ গোল)। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৭টি করে গোল নিয়ে তার অনেক পেছনে অবস্থান করছেন।
ইউরো টুর্নামেন্টে গোলের রেকর্ডের পাশাপাশি সর্বাধিক ৩০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও সিআরসেভেনের ঝুলিতে। এই রেকর্ড ভাঙা কেন কঠিন? কারণ একটি দল ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও এক আসরে সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো খেলোয়াড়কে অন্তত ছয়টি আলাদা ইউরো আসরে খেলে ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।
৯. বিশ্বকাপের ভিন্ন ভিন্ন আসরে গোল
গোলকিপার বাদে কেবল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই ইতিহাসের একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। তবে এখানে অনন্য এক ব্যবধানে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো—তিনি খেলেছেন এমন প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন। চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে প্রতিটিতেই গোল করাটা প্রায় অসম্ভব। আর তাই করে দেখিয়েছেন রোনালদো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন