০৪:৩৮ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে আদালত ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি খালেদ সাইফউল্লাহ টিপু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।
দন্ডপ্রাপ্ত খালেদ সাইফউল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে। তিনি বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের কুমিল্লার গৌরীপুর শাখার সাবেক বিক্রয় সহকারী ছিলেন।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থানার ২০১১ সালের একটি দুর্নীতি মামলায় আসামি খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ফলে আদালত তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। উভয় দণ্ড মিলিয়ে খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে মোট ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, খালেদ সাইফউল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের কুমিল্লার গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারীর কাজ করেছিলেন। এ সময়ে তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকায় ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন এবং একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলী প্রতিবেদনে ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা পাওয়া যায়। এছাড়া সোনাগাজীতে একটি মার্কেট নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ভবন ও মার্কেট নির্মাণের ব্যয়ের হিসাবের গোপনীয়তার মাধ্যমে তিনি মোট ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯৪ পয়সা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এবং তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. ইদ্রিছ।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন