০৪:৫৭ পি.এম
জনগণের ওপর যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবেন, তারা সরকারের ও সরকারের দলের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। তিনি জানান, অপরাধ করার সাথে সাথে দলের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনতে হবে; দলের পরিচয়ে কেউ যেন রক্ষা না পায়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের পাশে উপজেলা কৃষক দল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র জনগণই ক্ষমতা দেখাতে পারে। আমাদের দেশের এত ক্ষমতার মালিক শেখ হাসিনার শেষ পর্যন্ত বিড়ালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে অল্পবয়স্ক তরুণ ছাত্রদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, সেই তেলাপোকাদের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে; তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে।’
আরও পড়ুন: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে : হারুনুর রশীদ আজাদ
তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘যখন-তখন জনগণকে ছোট করা, তেলাপোকা বা ছাড়পোকা মনে করা; এইসব ঔদ্ধত্য যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দেখায় তারা দলের শত্রু, জনগণের শত্রু। এটা আমি অতীতেও সাবধান করেছি, বর্তমানেও সাবধান করে দিচ্ছি।’
দলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘ধানের শীষের হাতে বা শহীদ জিয়া পরিবারের হাতে যখন শাসন ক্ষমতার দায়িত্ব আসে, তখন সেই ক্ষমতার কোনো অপপ্রয়োগ সর্বোচ্চ মহলে হয় না। কিন্তু নিচের পর্যায়ে কেউ ভুলভ্রান্তি করলে সেই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত দলের ঘাড়ে যায়। তাই বিভ্রান্তিকর নেতাকর্মীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দল একটা বড় পরিবার, আমাদের অনেক ধরনের নেতাকর্মী ও অঙ্গ সংগঠন আছে। আমরা সবাই মিলে ধান চাষ করি, আবার কাটার মৌসুমে সবাই মিলে ধান কাটি। কিন্তু পরিবারের কিছু সদস্য ধান চাষ বা কাটার সময় থাকে না, তারা তখন ফুটবল খেলে। এদের চিনতে হবে। তারা যাতে কোনো অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সেদিকে দূরবীনের মতো চোখ রাখতে হবে।’
উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ আবুল হোসেন মিয়া, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম কাজল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শরীফ শফিকুর রহমান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন এবং কৃষক দলের জেলা উত্তরের সদস্য সচিব ভিপি মো. সেলিম হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব
একইদিন তথ্যমন্ত্রী গৌরনদীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৃথক তিনটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বেলা ১১টায় গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদেরও পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী স্কুল ক্যাম্পাসে একটি গাছ লাগান এবং শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন সংরক্ষক (কোস্টাল সার্কেল, বরিশাল) ড. মোল্লা রেজাউল করিম। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত এ মেলা চলবে।
পরে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-২০২৬ এর অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: দেবিদ্বার বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বহিষ্কার
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি মাঠমুখী হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভাষ কুমার দাস ও বন সংরক্ষক ড. মোল্লা রেজাউল করিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন