ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নেত্রকোনায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ


নেত্রকোনায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নেত্রকোনায় বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় জেলার কলমাকান্দা সহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করছেন।

ইতিমধ্যে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কৃষকদের পক্ষ থেকে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলমাকান্দা উপজেলায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নতুন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেই ইউপি চেয়ারম্যানদেরই রাখা হয়েছে তদন্ত কমিটিতে।

চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ প্রায় সব এলাকার বিস্তর ফসলি জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার হাওর উপজেলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার মোট ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে রয়েছে। এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক।

আরও পড়ুন: আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশে কাঁঠালিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি

সরকার এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদানে চালসহ আর্থিক অনুদান কর্মসূচির জন্য তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং একই ঘরের একাধিক জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এসব তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং খোদ ব্লক পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নামও উঠে এসেছে।

গণস্বাক্ষর দিয়ে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর খান এবং শাহিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাবই গ্রামের ২০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে ১৫ জনই কৃষি কর্মকর্তা শাহীনের নিজের আত্মীয়-স্বজন। তিনি নারীদের পাশাপাশি নিজের চাচাতো ভাইদেরও সরকারি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গ্রামে থাকার সুবাদে নূর খান ও শাহিন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কৃষি বীজ, সারসহ সকল প্রকার সরকারি প্রণোদনায় এ ধরনের অনিয়ম করে চলে আসছেন।

এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। তবে পরে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ দেওয়ার নামে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শাহিন। এ সময় তিনি প্রভাবশালীদের রেফারেন্স দিয়ে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রচেষ্টাও করেন।

এদিকে কলমাকান্দার এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে।

আরও পড়ুন: মধুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিচালিত এক অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ভাই ভাই জেনারেল স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির উদ্দেশে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করার প্রমাণ মেলে। এ অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক কামরুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, আরিয়ান ট্রেডার্সে পণ্যের দাম তালিকা প্রদর্শন না করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোজাম্মেল মোল্লাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় এবং দেলোয়ার স্টোরে একই অপরাধে মালিক মোস্তাকিম মোল্লাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। এ সময় তাকে সহযোগিতা প্রদান করেন গজারিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ফারহানা খান এবং গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে লাখো মানুষের জীবন। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বসতিগুলো বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টিতে দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিবছরই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিবিরবাসীদের মনে বৃষ্টি নামলেই বাড়ছে নতুন আতঙ্ক।

তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় জানাচ্ছে, পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং মেগাক্যাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত। এই আশ্রয়শিবিরের ৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় কেটে খাড়া ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত ঝুপড়ি ঘর। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের বেলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ছে। ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন স্থানে বালুভর্তি বস্তা ও ত্রিপল ব্যবহার করা হলেও পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না মাটির ধস। ফলে প্রতিটি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, আর চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা মো. রফিক তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেছেন, 'বৃষ্টি হলেই আমাদের বুকে কাঁপন ধরে, প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ যেকোনো সময় ওপর থেকে পাহাড় ধসে পড়তে পারে। জীবন বাঁচাতে বৃষ্টির রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না, সবাই জেগে থাকি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, 'ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসে পড়ে। এটা প্রতিবছরই হয়ে আসছে। পাহাড়ের ওপর থাকি, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সবসময় মরণের ভয়ে থাকি।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ৪ নম্বর ক্যাম্প নয়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৮টি ক্যাম্প পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও খাড়া ঢালজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ এখন চরমে।

ক্যাম্প-৯ এর বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন জানিয়েছেন, 'পাহাড়ের ওপর ঘর নির্মাণ করেছি। এখন পাহাড়ের ওপরেও ঘর, নিচেও ঘর। কোন সময় ওপরের ঘর ধসে নিচের ঘরের ওপর পড়বে, সেই ভয়ে থাকি।' একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সিরাজ বলেছেন, 'আমাদের তো আর কোনো উপায় নেই। বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দিন কাটে।'

ক্যাম্প-১০ এর সি ব্লকের বাসিন্দা দিলদার বেগম বলেছেন, 'ক্যাম্পের জীবন আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিতে বাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, 'ক্যাম্পে তো জায়গা খুব কম, কিন্তু মানুষ অনেক বেশি। খুবই ঘনবসতি। এখন পাহাড়ের ঢালে না থেকে আমরা যাব কোথায়?'

ঘনবসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও বাড়ছে। এই মানবিক ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন সময় সংবাদকে বলেছেন, 'ক্যাম্পগুলো খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। আমরা দেখছি অনেক মানুষ এমন জায়গায় বসবাস করছেন, যেখানে আসলে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। কেউ পাহাড়ের বিপজ্জনক ঢালে থাকছেন, যেখানে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে; আবার কেউ এমন নিচু এলাকায় থাকছেন, যা ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এটি একটি বড় সমস্যা।'

তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা এবং ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন কাজ করছি। আমরা দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা এসব উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখে। শুধু জরুরি সাড়ার জন্য নয়, ঝুঁকি কমানো এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে আগে থেকে বিনিয়োগ করা জরুরি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও ক্ষতি দুটোই কমানো সম্ভব।'

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, বর্ষার শুরু থেকেই ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার কাজ চলছে। প্রয়োজনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিটি ক্যাম্পে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, 'ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে আমরা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি। ভারী বৃষ্টিপাত বেশি হলে বা পাহাড় ধসের লক্ষণ দেখা দিলে বাসিন্দাদের অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। গত বছরও এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এবারও তা করার জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত ৮ বছরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে জামায়াতের উদ্দেশে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা শিখে যাবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা শিখে যাবেন

সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতি সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বাজেটের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বাজেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস, আরো দুই-চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে আস্তে আস্তে সমালোচনা করাটা বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেটি হচ্ছে, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি কমানো হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব, রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আহরণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সে জন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না। ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

শান্তিচুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, হামলার স্থান হল নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে, যেটি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, কারণ সেখানে স্থলসেনা নেই।

শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান পঞ্চম দফার আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়।

নাঈম কাসেম বলেন, ‘এই চুক্তি পুরোপুরি অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরাইলের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যেতে পারে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর শনিবার (১৭ জুন) দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইলের উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তি নিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হতাশা এবং সমালোচনাও শুনেছেন আপনারা। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মত সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো অবস্থান, কোনো সম্পৃক্ততা বা কোনো ভূমিকা নেই।

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

চুক্তিতে ‘ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া’ (সিকুয়েন্সড প্রোসেস)-এর কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে — তবে তা নির্ভর করবে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (স্পষ্টত হিজবুল্লাহ) যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণের ওপর।

শুধুমাত্র তখনই ইসরাইল লেবানন থেকে ‘ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার’ করবে। এই চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘ধাপে ধাপে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব’ গ্রহণ করবে।

চুক্তির ভাষ্য অনুসারে, ‘এসব পাইলট জোনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সফল নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর লেবানিজ সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবানিজ নাগরিকরা লেবানিজ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে সেসব এলাকায় ফিরে যেতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%