ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শত ঝুঁকি পেরিয়েও কেন মানুষ কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রায় যান?


শত ঝুঁকি পেরিয়েও কেন মানুষ কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রায় যান?

নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৪০৩ জনের খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের ৩৪১ জন নাগরিক এবং ৬২ জন নেপালি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানসসরোবরের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রায় ছিলেন। নিখোঁজ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ১০৫ থেকে ১৩৩ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় রয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই আকস্মিক বন্যার ফলে কৈলাস মানসসরোবর তীর্থযাত্রা আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

 

আরও পড়ুন: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: সাচিং প্রু

এই বন্যায় কৈলাস পর্বত এবং মানসসরোবর হ্রদে যাওয়ার প্রধান রুটের রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ বা সাধারণ তীর্থযাত্রা নয়; এটি এক পরম আত্মিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সন্ধান, যা তীব্র শারীরিক কষ্টের ঊর্ধ্বে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতের বোন ধর্মের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র এবং রহস্যময় কেন্দ্র। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত সাধারণ কোনো পর্বত নয়।

 

এটি দেবকূলের প্রধান ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর আদি বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, কৈলাসে স্বয়ং শিব সশরীরে বিরাজ করেন। মনে করা হয়, মানসসরোবর হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে পরমপিতা ব্রহ্মার মন থেকে, যার কারণেই এর নাম মানসসরোবর। এই হ্রদের জল অত্যন্ত পবিত্র।

আরও পড়ুন: বিপিসির ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদের পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন

 

বিশ্বাস করা হয়, মানসসরোবরের পবিত্র জলে একটি ডুব দিলে মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায়। আর কৈলাস পর্বতের চারপাশে ৫২ কিলোমিটারের এক চক্কর বা 'পরিক্রমা' সম্পূর্ণ করতে পারলে মানুষ মোক্ষ লাভ করে, অর্থাৎ সে জন্ম ও মৃত্যুর চিরন্তন চক্র থেকে মুক্তি পায়। তিব্বতি এবং হিন্দু উভয় ঐতিহ্যেই কৈলাস পর্বতকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করা হয়। বলা হয়, এটি স্বর্গ ও মর্ত্যের সংযোগস্থল। সাধক এবং আধ্যাত্মিক অন্বেষণকারীদের মতে, এখানকার মহাজাগতিক শক্তির স্তর এতটাই তীব্র যে, এখানে ধ্যান করলে অতি দ্রুত আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং ভেতরের কুপ্রবৃত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

মাউন্ট এভারেস্টে হাজার হাজার মানুষ উঠলেও, ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস পর্বতের চূড়ায় আজ পর্যন্ত কোনো মানুষ পা রাখতে পারেনি। চীনের সরকার এবং ধর্মীয় বিশ্বাস উভয় কারণে এখানে আরোহণ নিষিদ্ধ। লোককথা আছে, যিনিই এই পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন, তিনি হয় দিক হারিয়েছেন, না হয় তীব্র আবহাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই চিরন্তন এবং অলৌকিক রহস্য মানুষকে এক তীব্র চৌম্বকীয় আকর্ষণে কাছে টানে। ভক্তদের কাছে এই যাত্রার শারীরিক কষ্ট হলো অহংকার ও অহমিকা বিসর্জনের একটি প্রক্রিয়া। তারা বিশ্বাস করেন, শিবের ডাক না এলে কেউ কৈলাশে যেতে পারে না।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই যাত্রা প্রায় দুই দশকের জন্য স্থগিত ছিল। ১৯৮১ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির পর এটি পুনরায় চালু হয়। এরপর কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি আবার বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর ২০২৫ সালে পুনরায় যাত্রাটি শুরু হবে।

আরও পড়ুন: মহেশখালীতে তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের

ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান রুটের মাধ্যমে কৈলাস মানসসরোবরে পৌঁছাতে পারেন। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস রুটটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আলমোড়া ও ধারচুলা হয়ে এগিয়ে যায়। এরপর গুঞ্জি এবং লিপুলেখ পাশ দিয়ে তিব্বতে প্রবেশের জন্য হেঁটে বা ট্রেকিং করে যেতে হয়। সিকিম নাথু লা পাস রুটটি দিল্লি থেকে গ্যাংটক হয়ে নাথু লা পাস অতিক্রম করে এবং এরপর গাড়ির সাহায্যে তিব্বতের ভেতরে এগিয়ে যায়। সরকারি মাধ্যমে পরিচালিত এই রুটে ট্রেকিং বা হাঁটার পরিমাণ কম এবং গাড়িতে ভ্রমণের সুযোগ বেশি। ফলে এটি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ, যদিও পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে ২০ দিনেরও বেশি সময় লেগে যায়।

তৃতীয় রুটে তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে বিমানে বা গাড়িতে করে নেপালগঞ্জ বা সিমিকোট যান এবং সেখান থেকে হিলসা হয়ে অথবা সড়কপথে তিব্বতে প্রবেশ করেন। সরকারিভাবে পরিচালিত রুটগুলোর মতো না হয়ে, এই রুটটি বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কঠিন ট্রেকিং এড়ানোর জন্য এতে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও রয়েছে। নেপালের আকস্মিক বন্যায় এই রুটটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের সাড়ে ৪ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় যেতে হয়, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। তীর্থযাত্রীদের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, ভূমিধস এবং দুর্গম ভূখণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়। এর সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো কৈলাস পর্বতের চারপাশের ৫২ কিলোমিটারের পরিক্রমা, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ডলমা লা পাস অতিক্রম করা অন্তর্ভুক্ত।

শারীরিক কষ্ট ছাড়াও কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় যেতে নানান সরকারি অনুমতি ও ভিসা লাগে। শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ভারত সরকার এ যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নির্ধারিত কোটার বাইরে কেউ এ যাত্রায় যেতে পারেন না। এমনকি কেউ চাইলেও একা এ যাত্রায় সামিল হতে পারবেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনা বা নির্ধারিত বেসরকারি ট্রাভেল অপারেটররাই এ তীর্থযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এত বাধার পরও প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পুণ্যের আশায় কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা করেন।

আরও পড়ুন: ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদির পতন হবে : অভিজিৎ দীপকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়ানবাগ শরীফে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল র‍্যালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ এম


ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়ানবাগ শরীফে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল র‍্যালি

 

মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করা উচিত।

তিনি এ আহ্বানটি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালির পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

 

র‍্যালিতে লক্ষাধিক আশেকে রাসুল অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, দিনব্যাপী আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দরবারের পির সাহেবরাও ছিলেন।

কুদরত এ খোদা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে আশেকে রাসুলদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুসলিম জাতি দীর্ঘদিন ধরে এই আনন্দ উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

 

তিনি জানান, মুসলিমরা জানত যে, হজরত রাসুল (সা.) একই দিনে জন্মগ্রহণ ও ওফাত লাভ করেছেন। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সংস্কারক সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) মুসলিম জাতির এ ভুল ভেঙে দেন। তিনি ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, হজরত মোহাম্মদ (সা.) ১ রবিউল আউয়াল ওফাত লাভ করেছেন এবং ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন।

এ কারণে, মুসলিম জাতি আজ দয়াল রাসুল (সা.)-এর জন্মদিনে প্রাণভরে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন কুদরত এ খোদা।

 

সম্মেলনে বক্তারা জানান, হজরত দেওয়ানবাগী (রহ.) ইসলামে শতাধিক সংস্কার করেছেন। তারা বলেন, দেওয়ানবাগী হুজুরের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন শুরু করেছে।

সম্মেলনে দেশবরেণ্য আলেমগণের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. ফারুক (এম. ফারুক), নজরুল গবেষক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন, কলাম লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন সোহেল, জাতীয় আইন কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান মিয়া, মুহাদ্দিস এমরান হোসাইন মাজহারীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা: গোপালগঞ্জ থেকে মামলার অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা: গোপালগঞ্জ থেকে মামলার অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা : গোপালগঞ্জ থেকে ‘অন্যতম আসামি’ গ্রেপ্তার

 

যশোরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যার মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে। হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি গোলাম রসুলকে (৩০) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরের স্বর্ণপট্টিতে নিজ দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন আল-আমিন হোসেন, যিনি পূর্ব বারান্দীপাড়া, মাঠপাড়ার বাসিন্দা।

পরে পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদরাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পিবিআই যশোর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই জানতে পারে, আল-আমিনের সঙ্গে গোলাম রসুলসহ কয়েকজনের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

 

এই বিরোধের ফলস্বরূপ আল-আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার আল-আমিনকে কল করে লিচুতলা মাদরাসার পেছনের মেহগনি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে তাকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আল-আমিনের মৃত্যু ঘটে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর গোলাম রসুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

 

পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই। এরপর বুধবার ভোরের দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে গোলাম রসুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ জানান, গ্রেপ্তারের পর গোলাম রসুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যা কাণ্ডের বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পিবিআই যশোর জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আল-আমিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামিসহ অন্যদের বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার গোলাম রসুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমাচল প্রদেশে স্কুল ভর্তির ফর্মে থাকছে না ‘জাত’ কলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


হিমাচল প্রদেশে স্কুল ভর্তির ফর্মে থাকছে না ‘জাত’ কলাম

হিমাচল প্রদেশে স্কুল ভর্তির ফর্মে ‘জাত’ কলাম থাকবে না

 

ভারতের সমাজে জাত প্রথা বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, যদিও সংবিধানে কোনো বৈষম্য নেই। যুগের পর যুগ ধরে নিচু জাতের মানুষেরা জন্মগত কারণে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।

 

সরকার বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা এবং কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিচু জাতের মানুষেরা মূলধারায় আসার চেষ্টা করলেও, গ্রামীণ ভারতে জাত প্রথার প্রভাব এখনও দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। অনেক অঞ্চলে নিচু জাতের মানুষদের অস্পৃশ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। বেশ কিছু গ্রামে নিম্নবর্ণের মানুষদের উচ্চবর্ণের পাড়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সাধারণ কুয়া বা নলকূপ থেকে পানি নিতে বাধা দেওয়া, একই মন্দিরে প্রবেশ করতে না দেওয়া, এবং ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাদা বসতে দেওয়ার মতো বৈষম্য ঘটছে অহরহ।

 

জাতের বাইরে বিয়ে করা সামাজিকভাবে সহজ নয়। জাতের মর্যাদা রক্ষার নামে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনাও ঘটে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিচু জাতের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসরুম বা বেঞ্চের ব্যবস্থা থাকে।

এ জাত প্রথার মানসিকতা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ভারতের হিমাচল প্রদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলের ভর্তি ফর্মে ‘জাত’ কলামটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হিমাচল প্রদেশ তফশিলি জাতি কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে জাতভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে এবং ভ্রাতৃত্ব ও সমতার মনোভাব বৃদ্ধি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, স্কুলের ভর্তি ফর্ম থেকে জাতের কলামটি বাদ দেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ হবে এবং এর ফলে শিশুদের জাতের ভিত্তিতে কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায় ভোগার সুযোগ থাকবে না।

তবে, তফশিলি জাতির সদস্যরা যখন সরকারি কোনো স্কিম বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, তখন তাদের জাতের বিবরণ বা তথ্য প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা সরাসরি সুবিধাগুলো পেতে পারেন।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তফশিলি জাতির মানুষেরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সরকার সেগুলোর সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের কল্যাণের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কিম বা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, এবং সমস্ত যোগ্য সুবিধাভোগীদের এই উদ্যোগগুলো সম্পর্কে সচেতন করা উচিত যাতে তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হন, সেজন্য উচ্চশিক্ষার জন্য মাত্র এক শতাংশ সুদের হারে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করছে সরকার। এছাড়া, সরকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের জন্য ‘আপনা পরিবার সুখী পরিবার যোজনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই স্কিমের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে এবং এ পরিবারগুলোর নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেনশন পাবেন।

এর আগে ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে জাত প্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিতনার ঘনঘোর সময়ে ঈমান রক্ষার উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


ফিতনার ঘনঘোর সময়ে ঈমান রক্ষার উপায়

ইমান মুসলমানের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং এটি ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সনদ। ইমানহীন ব্যক্তি লক্ষ্যহীন, উদ্ভ্রান্ত ও দুর্ভাগ্যগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ইমান যেমন মহামূল্যবান, তেমনি এটি অত্যন্ত সংবেদনশীলও।

এটি অর্জন করা যেমন পরম সৌভাগ্যের বিষয়, তেমনি অসতর্কতার কারণে ইমান হারিয়ে দুর্ভাগ্যগ্রস্তদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান যুগ ফিতনার যুগ।

চারদিকে বিভ্রান্তিকর মতবাদ, নৈতিক অবক্ষয়, ভোগবাদ, মিথ্যা প্রচারণা এবং হারামকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতাসহ নানাবিধ ফিতনা দিনদিন বিস্তার লাভ করছে। ফলে এই সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে অন্ধকার রাতের খণ্ডের মতো ফিতনা গোটা সমাজে ছেয়ে যাবে। তখন সকালের মুমিন সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে।’ (তিরমিজি)। আজ চারদিকে নিত্যনতুন ফিতনার যে ঝড় বইছে, তাতে মনে হয় আমরা যেন কেয়ামতপূর্ব সেই সময়ের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করছি। তাই এই ফিতনাসংকুল সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকতে হলে ইমান সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন, যেসব কারণে ইমান দুর্বল বা বিনষ্ট হতে পারে সেসব বিষয় জানা এবং ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার উপায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইমানের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও উদ্বিগ্ন থাকতেন। একবার হানজালা (রা.) অনুভব করলেন, নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যে থাকলে তাঁর অন্তর আল্লাহমুখী থাকে; কিন্তু নবীজির (সা.) থেকে দূরে গেলে স্ত্রী-সন্তান, ধনসম্পত্তি ও দুনিয়াবি ব্যস্ততায় অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি বিষয়টি আবু বকর (রা.)-কে জানালে তিনিও বললেন, আমারও তো একই অবস্থা। (মুসলিম)

এখান থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, নবীজি (সা.) তখন তাঁদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এবং ফিতনার নিত্যনতুন ঝড়ও আজকের মতো প্রবল ছিল না। তবু তাঁরা নিজেদের ইমান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। অথচ আজ নানা ধরনের ইমানবিধ্বংসী ফিতনা আমাদের চারপাশ ঘিরে ধরেছে, কিন্তু সে তুলনায় আমাদের সচেতনতা ও আত্মসমালোচনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের ইমানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। ১. সঠিক জ্ঞান অর্জন : ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার প্রথম ধাপ হলো সমসাময়িক ফিতনাগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। বিনোদন, খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির নামে কীভাবে ইমানবিধ্বংসী চিন্তা ও জীবনদর্শন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা গভীরভাবে বোঝা। শিক্ষার নামে নাস্তিকতা, ভোগবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার প্রসার, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মানুষের রুহানিয়াত দুর্বল করে দেওয়া, স্বাধীনতা কিংবা অধিকারচর্চার নামে সমকামিতা ও অন্যান্য অনৈতিক বিষয়কে স্বাভাবিক করে তোলার প্রচেষ্টাসহ এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া। কারণ যে ব্যক্তি ফিতনাকে চিনতে পারে না, তার পক্ষে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা করা অসম্ভব।

২. তাকওয়া অবলম্বন : আল্লাহভীতি বা তাকওয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল। হালাল-হারামের প্রশ্নে কোনো আপস না করা, আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়া এবং গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি (ফুরকান) দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল, ২৯)

৩. কোরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা : যে ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিই সৃষ্টি হোক না কেন, প্রথমেই দেখতে হবে কোরআন ও সুন্নাহ কী নির্দেশনা দিচ্ছে। মানুষের মত, আবেগ, সামাজিক চাপ বা প্রচলিত সংস্কৃতিকে নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে, ততদিন কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। সেই দুটি বিষয় হলো, আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।’ (মুয়াত্তা মালেক)

৪. দোয়া করা : মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দোয়া। ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই সব সময় সঠিক পথে অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও জিকির পাঠ করা এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি। ৫. বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা : কোনো দিকে প্রভাবিত হওয়ার আগে বিজ্ঞ, আমানতদার ও তাকওয়াবান আলেমের কাছে বিষয়টি জানা এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। নয়তো ফিতনাসংকুল সময়ে সাধারণ মানুষের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।

♦ জুমার মিম্বর থেকে

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%