১১:২৪ এম
ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন অবস্থান তৈরি করছে চীন। যুদ্ধের শুরুতে বেইজিং মিত্র সরকার হারানোর আশঙ্কায় ছিল, কিন্তু এখন শান্তির মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরান একটি বড় সংকটের সম্মুখীন হয়, তখন চীন কৌশলগত অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। বেইজিং আশঙ্কা করেছিল, ভেনেজুয়েলার মতো তাদের আরেকটি মিত্র সরকার হয়তো পতনের মুখে। তবে কয়েক মাসের যুদ্ধ ও আলোচনার পর মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকার টিকে গেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ওয়াশিংটনের শক্তির সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে প্রকৃতপক্ষে আলোচিত হচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পক্ষে থাকা শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। একের পর এক বিদেশি নেতার আতিথ্য দেওয়া এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বেইজিং তার কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
যুদ্ধের সময় চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান অভিযানের সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে তেহরানের সাথে যোগাযোগও ধরে রেখেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় নিজেকে প্রস্তুত রেখে চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরান সংকটের পর চীনা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে, এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন 'সুয়েজ মুহূর্ত' হতে পারে! অর্থাৎ এমন একটি মোড় যেখানে একটি সংঘাত বিশ্ব নেতৃত্বের ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত চীনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, হস্তক্ষেপ না করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের বার্তা দিয়ে বেইজিং অনেক দেশের কাছে বিকল্প মডেল হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাচ্ছে। তবে চীন বিশ্বে প্রধান শক্তি হয়ে উঠবে কি না, তা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন: মদিনায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন